একদিন সকালে পৃথিবীর মানুষ ঘুম থেকে উঠল এবং খেয়াল করল, তারা দাজ্জালের হাতে হাত রেখে শপথ করেছে। কেউ গোপনে, কেউ প্রকাশ্যে; কেউ নিজেদের বুঝে, কেউবা ভুলে। কিন্তু দাজ্জাল তো আর কোনো একক ব্যক্তি নয়, সে এক ছায়ামূর্তি, যার হাত আছে রাজনীতিতে, অর্থনীতিতে, পররাষ্ট্রনীতিতে—একের পর এক ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তৃত করছে পৃথিবী জুড়ে।
মানুষগুলো চোখে দেখছে, কিন্তু মনে করছে তারা অন্ধ। তারা দৃষ্টি হারিয়েছে, কিন্তু বিশ্বাস করছে তারা সবই জানে। কেমন যেন একচোখা নীতির অধিকারী হয়েছে সবাই, যেখানে সত্যের দিকে তাকানোর শক্তি নেই, অথচ মিথ্যার পথ ধরে সোজা হাঁটছে।
অপ্রয়োজনীয় কথার খেলা...
রাজনীতিকরা বলে চলেছেন, “আমরা উন্নতি করছি, সভ্যতার শিখরে উঠছি।” আর মানুষ তা শুনছে, মাথা নেড়ে সম্মতি দিচ্ছে, কিন্তু সত্যটা জানতে চাওয়ার প্রয়োজনীয়তা কারোর নেই। মঞ্চে বক্তারা বলছে, “অর্থনীতিতে সমৃদ্ধি আসছে,” অথচ পেছনে কুৎসিত লুটপাট চলছে। আর মানুষ তা জেনেও চুপ।
“আমাদের পররাষ্ট্রনীতি শক্তিশালী,” এমন ঘোষণা দেয়া হচ্ছে মঞ্চে, কিন্তু পেছনে চলছে অস্ত্রের বাণিজ্য, যুদ্ধের প্লট। আর মানুষ তাতেই সম্মতি জানাচ্ছে, কারণ তারা নিজেরাই জানে না যে তারা আসলে শত্রুকে শক্তিশালী করছে। সভ্যতার শত্রু নিজেদের কাছেই! যে পররাষ্ট্রনীতি দিয়ে পৃথিবীর শান্তি আনা উচিত ছিল, তা এখন ধ্বংসের প্রমাণপত্র হয়ে উঠেছে।
ষড়যন্ত্রের চতুর খেলা...
একদল চতুর মানুষ নিজেদের স্বার্থে পৃথিবীর মানুষকে নিয়ে খেলছে। তারা মানুষকে নিয়ে যুদ্ধের বাজার তৈরি করছে, নতুন নতুন শত্রু বানাচ্ছে। এই খেলাটা রাজনীতির অন্ধকার, যেখানে স্বার্থ ছাড়া কিছুই নেই। একবার যুদ্ধ বাধলে মানুষ মরছে, গৃহহীন হচ্ছে, কিন্তু চতুরদের তো কিছুই হচ্ছে না। তাদের কাছে মানুষ স্রেফ দাবার গুটি, যা সঠিক সময়ে বলি দেওয়া হবে।
মানুষগুলো চুপচাপ দেখছে, কেউ বলছে না, “আমরা কোথায় যাচ্ছি?” কারণ, তারা বুঝতে পেরেছে, বললেও কোনো লাভ নেই। কৌশলে সবাইকে অন্ধ করে রাখা হয়েছে। চতুরেরা তাদের নিজেদের ষড়যন্ত্রে এতটাই মগ্ন যে, তারা মানুষের ভবিষ্যত দেখতে পায় না, আর মানুষ তা মেনে নিয়েছে, যেন এটিই তাদের ভবিতব্য।
দাজ্জালের হাত শক্তিশালী করা
এই যে মানুষগুলো দাজ্জালের হাত শক্তিশালী করছে, কেউ নিজের স্বার্থে, কেউ ভয় থেকে চুপ থেকে—তাদের সবাই যেন নিজের অজান্তেই সভ্যতার শত্রুতে পরিণত হয়েছে। তারা দাজ্জালের জয়যাত্রা নিশ্চিত করতে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে, আর ধ্বংস অনিবার্যভাবে তাদের সামনে দাঁড়িয়ে।
যখন শেষ হবে সব, তখন হয়তো মানুষ বুঝবে—নিজেদের সভ্যতাই নিজেদের হাতে ধ্বংস করেছে। কিন্তু ততক্ষণে খুব দেরি হয়ে যাবে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন