৩০ জুলাই, ২০২০

ভগবান

ভগবান,
সত্য কথা কৈতে গেলে
তেড়ে আসে বাপ
মিথ্যে কথা কৈতে গেলে
লিখছো তুমি পাপ! 
এই পথে চলে মানুষ
কোথায় গিয়ে থামবে? 
রঙ্গ রসের স্বর্গ ছেড়ে
মর্ত্যে আবার নামবে? 
মর্ত্যেলোকের চারিধারে
একটা ছবিই লটকে
রাবণ জাতি রাম সেজেছে
মানুষ গেছে সটকে! 
মুখ খুললে যমের দুয়ার
হচ্ছে যখন দেখা
চিত্রগুপ্ত ব্যস্ত তখন
গুনছে আয়ুষ রেখা!!     

২৯ জুলাই, ২০২০

কে এত ভালবাসবে


যখন এ হৃদয় স্পন্দিত হয়-
প্রতিটি স্পন্দনে তোমায় মনে পড়ে;
সেই পথের ছবি এখনো ভেসে ওঠে আঁখিপাতে,
আলতা মাখা পায়ে যে পথে গিয়েছো হেঁটে।।
প্রতি নি:শ্বাসে তোমার কথাই মনে পড়ে
বাতাস হয়ে সারাক্ষনই দাও আমায় ছুঁয়ে;
দৃষ্টির সীমানা জুড়ে দেখি শুধু তোমাকে
প্রতিরাতের স্বপ্নে ভালবাসি তোমাকে।।
আমার হাসি-খুশি-কান্না সবই তুমি
তোমায় ছাড়া নি:স্বঙ্গ - একা আমি;
যখন আমার সামনে থাকবে তুমি
স্বপ্ন গুলো সত্যি হবে- পৃথিবী হবে পূন্যভূমি।।
যখন ভাবি তুমি পাশে নেই,
আমি যেন পাগল হয়ে যাই;
কতটা ভালবাসি আমি,
হয়ত তা জানোই না তুমি!
কে তোমায় এত ভালবাসবে?
যতটা আমি তোমায় ভালবাসি।।

কবিতা


ইহলোকে আবির্ভাব শুধু তোমার জন্য,
হাজার বছর বাঁচার সাধ জাগে;
বেঁচে থাকার এই আকুতি শুধুই তোমার জন্য।।
প্রতিটি সকাল শুরু হয় অপার সম্ভাবনা নিয়ে,
সম্ভাবনার সৃষ্টি সেও তোমার জন্য।
প্রতিটি রাত  নির্জন হয়ে ওঠে
রাতের নির্জনতায় চুম্বন এঁকে দেব তোমার ঠোটে।
পাথরে বুক চিরে ঝরনা ঝরে
ঝরনার অবিরাম ঝরে পরা তোমার জন্যে।
বুকের ভেতর ভালবাসা ঢেউ খেলে
ভালবাসার বয়ে চলা এ নদী তোমার জন্য।

মনের ভিতর হাজারো প্রত্যাশা
প্রত্যাশাগুলো পূর্ণতা পাবে তোমায় কাছে পেলে।।

আগে বুঝি নাই


ভালবাসলাম তোমায় আমি, হৃদয় উজার করে
ফেলে দিলে আমায় তুমি , এ কোন অন্ধকারে!
পৃথিবীটা শূন্য আমার, আপন কেহ নাই,
সখি তোমার ভালবাসা, আগে বুঝি নাই।।

বুকের মাঝে মাথা গুজে, বলেছিলে গলা ছেড়ে
"ভালবাসি তোমায় আমি যাব না ছেড়ে";
পাগল হলাম তোমার প্রেমে,
গেলাম প্রেমের মায়ায় পড়ে।।

মায়ার বাঁধন ছিন্ন করে, এখন তুমি অন্যের ঘরে
সেই তুমি আছো সুখে, সোনার সংসারে!
এখন আমি ভীষণ একা, আমার কেহ নাই
সখি তোমার ভালবাসা আগে বুঝি নাই।।

তোমার প্রেম যে, প্রেম ছিল না, ছিল ছলনা
কেন আমি আজও তোমায় ভুলতে পারিনা,
অন্তর আমার গ্যাছে পুড়ে -পরে আছে ছাই;
সখি তোমার ভালবাসা, আগে বুঝি নাই।।

তাগুত সাবধান

বিখ্যাত কিংবা নেতা হতে আসিনি,
এসেছি অধিকার আদায়ের জন্য;
হতাশার অন্ধকূপের বন্দিশালা থেকে-
১৮ কোটি মানুষকে মুক্ত করতে।।

আমি এসেছি অন্যায়ের শ্বাসরোধ করে,
অন্যায়কারীকে বিচারের শূলবিদ্ধ করতে;
মুখোশের আড়ালে লুকিয়ে থাকা-
তথাকথিত জননেতার মুখোশ খুলে দিতে;
প্রচলিত নিয়মের বাঁধ ভেঙ্গে -
জীর্ণ সংস্কারগুলিকে ছেঁটে দিতে।।

ঘুমন্ত মানুষগুলোকে জাগিয়ে তুলে
বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখাতে আমার আগমন,
বাগানের ফুল গুলো ঝরে যাচ্ছে অকাতর
একটি ফুলও অপমানিত হবেনা আর-;
ফুলগুলোর সৌন্দর্য থাকবে অমলিন
ওরা ছুটবে, খেলবে, গাইবে চিরদিন ।।

পাখিগুলো নির্ভয়ে উড়ে যাবে নীলাকাশে,
পাহাড়ের ঝরনাধারা অবিরাম বয়ে যাবে,
কোকিলারা গলা ছেড়ে গাইবে প্রেমের গান
রাতগুলো নির্জনতা ছেড়ে হবে অনন্ত প্রেমময়।।

মানুষ আমি, হবে মানবতার জয়গান
দিনশেষে হয়ে যাবে শেষ, আছে যত শয়তান ;
মানুষ আমি,এসে পড়েছি, তাগুত সাবধান!

২৮ জুলাই, ২০২০

ঈশ্বরের প্রতি খোলা চিঠি

"হে জগদ্বিধাতা ঈশ্বর, আপনাকে বিশেষ প্রয়োজন, বার্তাখানি হস্তগত হওয়া মাত্রই ধরাতলে যাত্রা করুন!"

লিখিত পত্রখানি প্রেরণের নিমিত্ত প্রাপকের ঠিকানা জানা আবশ্যক হইলে জুগুপ্সার জন্ম হয়।
আচ্ছা মহামহিম, আপনি কি এখনো সেখানেই আছেন?
যেখানে- ঐ সূদুর নীহারিকার টিমটিমে আলোর ধার,
অথবা, অনাদি মহাবিশ্বের কোনো অজানা আরশের পর-
যার খানিক বাদেই গোগ্রাসে গিলছে দলাদলা অন্ধকার!!
না-কি তার আশেপাশেই বা অন্যকোথাও সুবিধামতো বদলেছেন আপন অধীষ্ঠান?

সে যাইহোক, আগাগোড়া ভাঙাচোরা নিয়ে যেখানেই থাকুন আর যেভাবেই থাকুন- আমি কেন ভুলে যাই?
আপনি মহামহিম, জ্ঞানের আধার-নৈঋতে সর্বশ্রেষ্ঠ শ্রোতা! অলৌকিক দুনিয়ার জানা-অজানা, সন্দেহ-সংশয়, বিশ্বাস-অবিশ্বাসের দোলায় অবিরাম দুলতে থাকা সুখপতি মহেশ্বর! 
তথাপি - অন্ততঃ একবার,
অন্তত এইবার নেবে আসুন ধরাতলে,
আপনাকে বিশেষ প্রয়োজন।।
পৃথিবীজুড়ে অগুনিত মানুষের অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু, অসহায় আর্তনাদ, জ্বলন্ত উনুন! এতসব অন্যায়-উৎপীড়ণ দেখেও কি আপনার বুক এতটুকু কাঁপে না?

জেনেছি -
আপনি সর্বশক্তিমান, একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণকারী!
তবে আসুন, ধরাতলে আপনার বিশেষ প্রয়োজন।

গেন্দু লিডার

লোভের তরে গেন্দু মিয়া
হইলে ন্যাতার চামচা
চামচা লিডার হৈতে গিয়া
বেইচ্চা দিলেন গামছা!

গামছা বেচে পাইলে তিনি
মোটের উপর কুড়ি
সেই কুড়িতে কিইন্না নিলেন
দো-ধারি এক ছুরি!!

সেই ছুরিতে গেন্দু লিডার
নিত্যই মারে শান
সুযোগ খুঁজে কখন ন্যাতার
কাইড়া নেবে জান!!!

জানের চেয়ে প্রিয় ন্যাতার
সরকারের ঐ গদি
মরার আগে খায়েশ তাহার
"দ্যাশটা বেইচ্চা যেতেম যদি!"

মৈলে ন্যাতা গেন্দু মিয়া
হৈবে দ্যাশের ন্যাতা!
প্রশ্নে বিভোর মনু মিয়া
কবে খুলবে তোগের মাথা? 

২৭ জুলাই, ২০২০

সমীকরণ

ভালবাসা নাকি ঘৃণা?
এ দুয়ের সমীকরণ মেলাতে গিয়ে
একটি দুরন্ত প্রাণের অসহায় আত্মসমর্পণ!
কেন? জানি না!
তবুও, জানতে চাই
যাকে ভালবাসা যায়
তাকে ঘৃণা করা গেলো
          যাকে ঘৃণা করা গেলো
          তাকে আর ভালবাসা যায়নি?

সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না, প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি,
প্রেম-বিরহ, সময়-অসময় প্রত্যেকটি পরিস্থিতি ক্ষণিকের অংশগ্রহণ মাত্র; বলা যায় জীবনের খন্ড চিত্র, অবিচ্ছেদ্য অংশ। অথচ, সেইগুলোর কোনটিই জীবন নয়!

জীবন;
সে-তো অমূল্যকুমার
সে তোমাকে বাঁচতে শেখায়
ভালবাসতে শেখায়, ঘৃণা করতে শেখায়
রাগে কিংবা অভিমানে অঝোরে কাঁদতে শেখায়,
ধৈর্যশীল কিংবা বিদ্রোহী হতে শেখায়।।

সেসবকে তুচ্ছজ্ঞান করে আত্মহনন?
কখনো নয়! কখনোই নয়!! কক্ষনো নয়!!!
হে পোড় খাওয়া সৈনিক,
পৃথিবীতে এমন কী আছে
যা তোমার চাইতেও বড়?

°
°
°
সমীকরণ
______________ রশিদ ভাই।
সাতাশ সাত কুড়ি 

২৫ জুলাই, ২০২০

ত্যাগী নেতা ভোগী নেতা

যুগেযুগে তেলবাজ ছিলো
ভবিষ্যতেও রইবে ভাই
তেলবাজেরাই যাবে জিতে
আমজনতার খাওয়া নাই!

ত্যাগী নেতা ঘরের ভেতর
কোয়ারেন্টিনে আছে ভাই
কলাগাছের থোড় খায়া বাঁচে
ঘরে তাহার খাবার নাই!

ভোগী নেতার পেটটা ফুইল্যা
ট্যাপামাছের লাহান ভাই
ভাইরাসের চাই শক্তিশালী
এই কথা ক্যান ভুইল্যা যাই?

মিঠা কতায় নেতা খুশি
বিছনার খবর কৈতে নাই
সত্য কথা কইতে গেলে
চাকরি পাতলা হৈবে ভাই!

লেবাসপরস্তি

তোমাদের কী করে বিশ্বাস করি, বল তো?
ঐ বিপত্তারক বিধাতাকে কতো নামেই ডাকছো
দৃশ্যতঃ লেবাসপরস্তি, প্রাণ জুড়িয়ে যায়!
অথচ, তারই নির্দেশের ব্যতিক্রম ঘটিয়ে মরতে বসেছো!
ওরে, বোকার স্বর্গে ধোঁকা দেয়া নিজের জন্যই ক্ষতিকর
স্রষ্টার পুজো না করে অভাগী মহাবিশ্বের সৃষ্টিতে ভোঁতা মাথাটা ঠুকে কী লাভ?
ওহে গোপালকৃষ্ণ মোহাম্মদ
ওতে শুধুশুধু মাথাটা ফাটিয়ে রক্ত ঝরানোই হয়!
না মেলে আল্লাহ
না মেলে ভগবান
আরও কত-শত নাম!

কেন বেঁচে আছি

যারা মরেছে, তাঁরা'তো মরে গিয়ে বেঁচে গেছে!
আপনি কেন বেঁচে থাকবেন? মরে যেতে পারেন না!
আজঅব্ধি দেহপিঞ্জরে প্রাণস্পন্দন নিয়ে বেঁচে আছেন,
বেঁচে থাকার সুনির্দিষ্ট একটি কারণও দেখাতে পারবেন?
কার জন্য, কিসের জন্য, ঠিক কেন বেঁচে আছেন?
বলতে পারেন, আর কতদিন বাঁচবেন?
অতদিন বেঁচে থেকেই বা কী করবেন?
আচ্ছা, ঠিক আছে; কারণেঅকারণে অনেকদিন বাঁচলেন - তারপর একসময় টুপ করে মরে গেলেন!
এবার বলুন তো, কেন অতদিন বেঁচে ছিলেন?

যত প্রশ্নই করেন, উত্তর একটাই -
   "শুধুমাত্র বাঁচার জন্যই বেঁচে আছি!
   বেঁচে থাকার সুনির্দিষ্ট কোন কারন নেই!"
আর হ্যাঁ, আপনাকে বলছি-
  "যতক্ষণ বেঁচে আছেন
   ততক্ষণ প্রাণভরে বাঁচুন;
   উপলক্ষ? সেতো বাতুলতা মাত্র!"

দ্বিচারিণী

বেঁচে থাকার উল্লেখযোগ্য কোন কারণ অবশিষ্ট নেই!
উপলক্ষগুলো অতিমাত্রায় বাড়াবাড়ি, বাতুলতা।
যদিওবা এখানে কেউ'ই কারোর নই,
তবুও সকলে ছুটছি, পায়ে পা মিলিয়ে ছুটছি,
প্রাণপণ ছুটছি- অলীক সুখের প্রয়োজন।
পরস্পরের মুখেচোখে কতরকমের আবেগ- অনুভূতি- বিশ্বাস - ভালোবাসা - প্রেম- পরিণয় - প্রতিশ্রুতি!
অনন্তর, সবকিছুই লোকদেখানো, নিরেট সামাজিকতা
বলা চলে, অন্তঃসারশূন্য সম্পর্কের নোংরা অভিনয়!!

দ্বিচারিণী সবিতার প্রেমময় ব্রতপালন দেখেছি কতবার
অথচ, রাতবিরেতে পুণ্যবান কৃষ্ণচন্দ্র তার সুখেই ভাসে!
নিষিদ্ধপ্রেমের অভিসারিণী আজ মোহময় অনুরক্ত সবিতা!

তবুও বেঁচে আছি,
শুধুমাত্র-
বেঁচে থাকার জন্য।।

তোমাদের জন্যে

লিখতে গিয়ে থেমে যাই বারবার
প্রতিবারই থেমে যাই, থেমে যেতেই হয়!
ঠিকানা বিহীন ভাবনারা ঘুরপাক খায়
ঘুরপাক খায় ঘুরপাক খায় ঘুরপাক খায়!
সেই ঘূর্ণাবর্ত থেকেই লিখতে চাই
লিখতে চাই
অসহায় দুর্বল চিড়িয়ার আর্তচিৎকার
বেওয়ারিশ কুকুরের জীবনগাথা
ডোবায় ভেসে ওঠা ধর্ষিতার পঁচা গলা লাশ
হা সময়ের অ সময়োচিত উপাখ্যান;
আমি লিখতে চাই
বয়সের ভারে ন্যুব্জ পৃথিবীর দুঃখের ইতিহাস;
আমি লিখতে চাই
মরু সাহারায় চাতক পাখির তিয়াসী বাসনার গল্প,
আমি লিখতে চাই
কাঁটাতারে বিদ্ধ ঝুলন্ত ফেলানীর পোস্টমর্টেম রিপোর্ট
আমি লিখতে চাই
ধর্মান্ধ কপটাচারী ফতোয়াবাজের নৃশংসতার বিবরণ
আমি লিখতে চাই
মানবিক অধিকার হরনকারী পিশাচের গল্প
যারা পঞ্চাশ বছরেও টিকে আছে বহালতবিয়ত।

যখনই ন্যায়ানুগ ভাবনারা জমাটবদ্ধ হয়-ঠিক তখনই, ঠিক তখনই ঠোঁটের আগায় বেয়োনেট লাগিয়ে দিলে
স্থবির হয়ে যায় সবকিছু!
আমি লিখতে পারি না,
একদম থেমে যাই!
অর্থহীন হয়ে যায় আমার বেঁচে থাকা!
অর্থহীন লাগে তামাম বিশ্ব-পৃথিবী।

তা স্বত্বেও,
লিখতে চাই
অথচ পারি না!
আমি পারি না!
সত্যিই, আমি পারি না!
কোনোমতেই পারি না!
কেননা,
আমার লিখনীতে কালি নেই!
নিঃশেষ হয়ে যায় সত্যের ধর্ম।
যেই কালি পিতার হত্যাকারীর সুরক্ষায় ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারী করেছে! যেই কালি স্বাধীনতার সূর্যকে গ্রাস করেছে একুশটি বছর -সেই কালি আজ হিংস্রধর্মী বর্মীর হাতে জিম্মি, যাদের বর্শার ফলায় লেপ্টে আছে দলা দলা কালি-
কারোর বন্দুকের নলে কালি,
কারোর পারমাণবিক বোমার কণায় কণায় কালি
অনু পরমাণুতে কালি,
পরাশক্তির বীর্যারোহণে একেকটি প্রাণঘাতী জীবাণু অস্ত্রের জন্ম-মৃত্যুতে কালি!

আমি জানি,
ঐ কসাইয়ের হাতে ধর্মান্তরিত প্রিয় লিখনী,
যার কিছুই আমার নেই,
তবুও, লিখতে চাই
আমি লিখতে চাই
তোমাদের জন্যে।

দেশমুখী

গলায় পেঁচিয়ে দড়ি
প্রাণটা দিলো যে ছাড়ি
সে ছিলো বন্ধু আমার!
মাটির পৃথিবী ছেড়ে
যাওনি বহুদূরে
দেখা হবে বন্ধু আবার...
          সারাক্ষণ হাসিখুশি
          কিসের দুখে সে দুঃখী?
          বলেনিতো একটিওবার!
হাওয়ায় উড়তে চাওয়া
এভাবেই চলে যাওয়া
অপরাধ নয় কি তোমার?

কী এমন আক্ষেপে
এতটা দুঃখ পুষে
জীবনটা পুড়ে ছারখার
        অভিমানী দেশমুখী
        শুভ কামনা রাখি
        সুখী হোক তব পরপার।।

চাইনা



            এমন জন্ম চাইনা
    যে জন্ম, হবে আজন্ম পাপ!

       এমন রক্ত সম্পর্ক চাইনা
     যে সম্পর্ক, করবে বেঈমানী!

              এমন বন্ধু চাইনা
     যে বন্ধু, শত্রুর চেয়ে ভয়ংকর!

            এমন স্বপ্ন চাইনা
      যে স্বপ্ন,  সারাজীবনের দু:স্বপ্ন!

               এমন শিক্ষা চাইনা
      যে শিক্ষা, আলোর পথ দেখায় না!

               এমন প্রেম চাইনা
          যে প্রেম, জীবনভর কান্না!

             এমন ভালবাসা চাইনা
        যে ভালবাসা, জন্ম দেয় ঘৃনা!

                এমন সুখ চাইনা
       যে সুখ, দু:খ ভোলাতে পারেনা!

             এমন ভবিষ্যৎ চাইনা
         যে ভবিষ্যৎ, হয়ে যায় অন্ধকার!

               এমন সভ্যতা চাইনা
          যে সভ্যতা, করায় অসভ্যতা!

                 এমন নেতা চাইনা
          যে নেতা, হারায় সঠিক দিশা!

                  এমন সৃষ্টি চাইনা
           যে সৃষ্টি, ধ্বংসের কারন হয়!

               এমন আইন চাইনা
           যে আইন, অন্ধ হয়ে যায়!
               
             এমন বিচার চাইনা
        যে বিচার, নির্দোষ কে সাজা দেয়!

               এমন সত্য চাইনা
         যে সত্য, মিথ্যাকে আড়াল করে!

               এমন জীবন চাইনা
       যে জীবন, অমর হতে পারেনা!

             এমন পৃথিবী চাইনা
       যে পৃথিবী, আমায় ধরে রাখেনা!

২৪ জুলাই, ২০২০

তবুও

অবিশ্বাস এবং সন্দেহের বীজ দ্রুতই চারাগাছ হয়, অতঃপর, ডালপালা সমেত বেড়ে ওঠে বিশালতায়!
যে বৃক্ষতলে শুধুই অস্বস্তি, সেখানে মন মরে যায়।।

ওগো শরীরিণী,
চৈতন্যে কীইবা আসে যায়?
যদি মনেতে না জাগে সায়..!

তবুও,
এমনই থাকো নিশ্চুপ নিরালায়। 

হাহাকার


জীবনের গল্পগুলো কেমন যেন ধূসর,
গলা টিপে ধরতে ইচ্ছে করে কষ্টগুলোর;
প্রচলিত নিয়মের বেঁড়ি ভেঙে দিতে চায় মন,
থামিয়ে দিতে চায়, অসহায় বেঁচে থাকা জীবন।

লোকগুলো অন্যায়ভাবে জেলে গেলো!
সখিনারা দিনদুপুরে ধর্ষিত হলো!
মানুষটা বিচার বর্হিভূত খুন হলো!
বাংলাদেশ ব্যাংক লুট হলো!
হায়-হায় এদেশের কি হলো!!
আহারে,
         দেশ গেলো, দেশ গেলো!!!
          হাহাকার করে বেঁচে থাকা মানুষ গুলো
          মরে গিয়ে চাঁদের দেশে সমাধিস্থ হলো।

থামিয়ে দে,
         হাহাকার করে বেঁচে থাকার তাড়া।
         বাঁচেনি ওরা, বাঁঁচবি না তোরা!
         একবার তো জেগে উঠে দাড়া!!
নইলে-
          তোদের জন্যেও হচ্ছে গোর খোঁড়া।

নেকির খাতা পুরোটাই পাকা
মানবতার খাতা শূন্য, ফাঁকা!!
মরার মত বেঁচে থাকা
নাকি মরে গিয়ে বেঁচে থাকা?

২৩ জুলাই, ২০২০

শেষ রাতের গল্প

কি অইলো মিয়া, আহেন- কাম সারেন! ট্যাকা উসুল কইরা ফুইটা পরেন।
- না, মানে আপনার নাম কি?
অয় মিয়া, নামের লগে কাম করবাইন, নাকি নামের মানুষডার লগে!? অত গুজব করবার টাইম নাইক্যা! আহেন!!
- না, মানে- ইয়ে, মানে......!

হা হা হা হা হা....!  জীবনে পয়লাবার! অত শরমের কিছু নাই- কাপড়চোপড় খুইলা লুঙ্গি পইরা নেন। শরম কাটানের ব্যবস্থা আমার জানা আছে। বচন দিলাম - বাইর হওনের পর একরত্তি শরম থাইকপে না! বেবাক শরম সমুন্দুরের নোনাপানিতে ধুইয়া দিমুনে।

- আসলে যা ভাবছেন, তা নয়! আ-মি ওইসবের জন্যে এখানে আসি নি! আপনার সাথে কিছু কথা বলতে চাই।

হা হা হা....! মিয়ায় কয় কি!? পাড়ার মইদ্যে আইছে - কিছু করবার জন্যে লয়! কতা কইবার জন্যি!! হা হা হা...
হুনেন মিয়া, গতর বেইচা খাই! খদ্দেরের খুশি দেওয়াই আমার কাম। কইলামই তো গুজব করনের টাইম নাই! কাম করলে করেন, নইলে ফুটেন!!

- দেখুন, আপনার সময়ের দাম আমি দিয়ে দেবো,  আপনার ক্ষতি করবোনা!

অই মিয়া, বেশ্যার লগে ট্যাকার গরম দেহাইতাছেন! যেই বেশ্যাগো ইজ্জতের দাম দেওয়া শিখো নাই, তাগো সময়ের দাম ক্যামনে দিবাইন? হুনেন মিয়া, বেশ্যা হইবার পারি- কিন্তু অমানুষ লই! গতর না খাটাইয়া কারোর কাছ থাইক্যা এক ট্যাকাও নেইনা!

- দেখুন, আমি একজন নবীন লেখক। আপনাদের জীবনের কাহিনীগল্প লিখতে চাই। আর তাই'ই.....

হা হা হা...! হুনো মিয়া আমাগো ছেঁড়াফাডা জীবনের কোন গল্প কাহিনি নাই। কামুক পুরুষেরা নারী শইলে আসক্ত। নেশায় বুদ হইয়া অরা আসে, মজা নেয়, আবার চইলেও যায়। পুরুষ আমাগো এক রাইতের নাগর, যার লগে আমাগো দেহগত বিনিময় হয়। আমগো মতো মাইয়াগো ট্যাকা কামানের এর থাইকা সহজ রাস্তা দ্বিতীয়ত নাই। যাউকগা- অহন মিয়া, তুমি মজা নিবা, নাকি চইলা যাবা? অতো ফাও প্যাঁচাল পারোনের সময় নাই!

অগত্যা বেরিয়েই এলাম! ওই নারীর কোন গল্পই আর শোনা হলো না!

এদিকে প্রায় দুইমাস হতে চললো- গান, কবিতা, গল্প কিছুই লিখতে পাচ্ছি না! কেমন যেন ব্লক খেয়ে আছি। সবকিছু মাথার উপর দিয়ে যাচ্ছে! ভাবছিলাম এক্কেবারে রিয়েলিস্টিক ঘটনাদি অবলম্বনে কিছু লিখবো। কিন্তু, সে আর হলো না।
এখন রাত্রির প্রথমভাগ, ছাত্রবাসে ফিরে যাবো? না, যাবো না, কিছুই ভাল্লাগছেনা! পাড়া থেকে বের হয়ে জাহাজ কোম্পানি মোড়ের দিকে হাটছি। নিয়নের আলোয় একা পথ চলতে ভালোই লাগছে। কয়েকটা কুকুর জটলা বেধে আছে। দোকানপাট সব বন্ধ, বড়বড় তালা ঝুলছে। তবে এই তালাগুলি নিরাপত্তার সবশেষ কথা নয়! নৈশপ্রহরী বেশ সজাগ, মাঝেমধ্যেই বাঁশিতে ফুঁক দিচ্ছে, টর্চ মারছে, হাতের লাঠি দিয়ে এখানে সেখানে আঘাত করে শব্দ উৎপাদন করছে টিংটিং- টংটং-ঢংঢং, আবার হাঁক ছাড়ছে এইভাবে -
- অই কে যায়? ক্যাঠায় ওইখানে? ক্যাঠারে?

সামনের দিক থেকে একটা রিকশা আসছে। এবার আমিই রিকশাচালককে হাঁক ছাড়লাম-
- ওই মামা যাইবা নাকি?
কই যাইবেন?
- কই যাবো! হুম, হ্যাঁ, চলো -স্টেশনে চলো।
রিকশায় উঠলাম, রাতের শহর এতটা নিস্তব্ধ হতে পারে! আগে এভাবে দেখা হয়নি!! রিকশার হুডে ধ্যাপ ধ্যাপ টাইপের শব্দ হচ্ছে। শিরশির হাওয়া শরীর ছুঁয়ে যাচ্ছে। শহরটা আজ যেন আমার একার সম্পত্তি! আমি আজ এই শহরের একচ্ছত্র অধিপতি, রিকশাচালক আমার সেনাপতি। হঠাৎই রিকশাটা গ্রান্ড হোটেল মোড়ে ব্রেক দিলো।  রাস্তার অপরপ্রান্তে পুলিশের গাড়ি দাঁড়ানো। একজন পুলিশ রিকশাচালককে বললো-
* ওই রিকশা কই যায়?
মামায় স্টেশন যাইবে, স্টেশন যাইতেছি স্যর।
রিকশাচালকের কথা শেষ না হতেই দুইজন পুলিশ রাস্তা পার হয়ে রিকশার সামনে এসে দাঁড়ালো। একজন পুলিশ আমাকে বলল-
* বাড়ি কোথায়?
আমি কিছু বলছি না! চুপ করে থাকলাম।
* ব্যাগে কী আছে?
আমি এবারো চুপ!
দ্বিতীয়জন পুলিশ এবার সামনে এলো -
* ওই কথা কানে যায়না! কথার উত্তর দিচ্ছিস না কেন?
এবার আমি দ্বিতীয়জনকে উদ্দেশ্য করে বললাম -
- আপনার আই কার্ড দেখান।
* এই কেন, আই কার্ড দেখাবো কেন?
- আপনি আসল পুলিশ নাকি নকল সেটা বুঝতে হবে তো! যতদূর জানি আসল পুলিশ লোকেদের সাথে তুইতোকারি করে না! আপনার আই কার্ড দেখান?
এবার প্রথম পুলিশ সামনে এলো -
* পুলিশের সাথে মশকরা করা হচ্ছে?
- ভুল বুঝবেন না! আজ সকালেই টিভিতে দেখলাম, ভুয়া পুলিশের খপ্পরে পরে ব্যবসায়ী গুম! সন্দেহ করাটা অমূলক নয়।
কথা চলছিলো, এমন সময় আরেকজন পুলিশ মোটরবাইক নিয়ে একদম রিকশার সামনে এসে দাঁড়ালো -
* এই কি হয়েছে এখানে?
প্রথম পুলিশ তাকে সব বলছিলো। এদিকে আমার কেনজানি বাইকে আসা পুলিশটাকে চেনা চেনা লাগছে! পাশেই দাঁড়ানো দ্বিতীয় পুলিশের হাতে থাকা টর্চ লাইটটি নিয়ে এই নতুন পুলিশের মুখে জ্বালিয়ে ধরলাম।
ধরা মাত্রই প্রথম পুলিশ বলছে- এই তোর এতবড় সাহস!
ওর কথা শেষ না হতেই আমি বললাম -
- রন্টু মামা! তুমি কোতোয়ালি থানায়! কবে আসছো? আরে মামা আমি মিল্টন মামার ভাগ্নে, তোমার সাথে ঢাকায় দেখা হয়েছিলো, মামার বাসায়, মিরপুর ১০ নম্বরে! 
লাইটটা এবার নিজের মুখের দিকে ধরে বললাম--
- দেখোতো মামা, আমায় চিনতে পারো কি?

নাহ, পুলিশটি আমাকে চিনতে পারলেন না! বললেন - "আপনাকে চিনতে পাচ্ছিনা! আমি আপনার রন্টু মামা নই, আর ওই মিল্টন মামাটা কে?"
আমি খানিক ভ্যাবাচ্যাকায় পরে গেলাম! শুনেছিলাম পুলিশের চোখ কখনো ভুল দেখে না! তাহলে কি আমিই ভুল লোককে রন্টু মামা ভাবছি? রন্টু মামার সাথে একবারমাত্র দেখা হয়েছিলো ছোটমামার বাসায়! এই পুলিশের নেমপ্লেটে লেখা রাইসুল আজাদ। আমিতো শুধুমাত্র রন্টু মামার ডাকনামটাই জানি! আরে না, না! এই লোক রন্টু মামা নয়! তাছাড়া, তিনি যখন বলছেন যে আমাকে চিনতে পাচ্ছেন না, সেখানে আর কী করার! রন্টু মামা হলে অবশ্যই আমাকে চিনতো!

তাকে বললামঃ
- আপনি রন্টু মামা নন! বে-শ ভালো কথা। মিল্টন নামের ব্যক্তি আমার ছোটমামা, সম্পর্কে তিনি আপনার দুলাভাই, আর আমার হবু শ্বশুর হবার কথা ছিলো! দুর্ভাগ্য, একটাও হলো না! সে যাইহোক, এবার আমাকে যেতে দিন।

* যাবেন, অবশ্যই যাবেন, তার আগে বলুন- কোথা হতে আসছেন?
- শিউলিবাড়ি থেকে
* শিউলিবাড়ি! ওটাতো বেশ্যালয়!
- জ্বি, ওটা বেশ্যালয়।
* কেন গিয়েছিলেন সেখানে?
- অন্য সকলে কী কারণে যায়! সত্যিই আপনার আই কার্ড দেখা উচিৎ, পুলিশ কখনো এরকম বোকাবোকা প্রশ্ন করে!

খুব স্বাভাবিকভাবেই উত্তর দিলাম, কিন্তু উপস্থিত কেউই সহজভাবে নিলো না! ওদের ভাব দেখে মনে হলো আমার শরীর থেকে পচা মাছ আর আঁইশের উৎকট গন্ধ বেরুলো। এই শিউলিবাড়ি নামটা মুখে তোলামাত্রই শুরু হলো দুর্গন্ধ! যা একটু আগেও কারোর ইন্দ্রিয় স্পর্শ করেনি!!  দ্বিতীয় পুলিশটি ঘৃণাসূচক দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললোঃ
* ছিঃ ছিঃ! কি জঘন্য এই সময়ের পোলাপান! ঘোর কলিযুগ স্যর, ঘোর কলিযুগ!
ওর কথায় কর্ণপাত করে এবার রাইসুল আজাদ আমাকে বললেনঃ
* এখন কোথায় যাচ্ছেন?
- রেল স্টেশন।
* কেন?
- প্লাটফর্মে বসে থাকবো
* প্লাটফর্মে বসবেন! কেন?
- প্রাইভেট বিষয়, বলা যাবেনা।
* এখানে কোথায় থাকেন?
- মেসে থাকি, লালবাগ ২নং রেলগেটে, রাতিন স্টুডেন্ট প্যালেস।
* কোন কলেজ?
- কারমাইকেল
* আই কার্ড?
- এইযে! (দেখালাম)
* ব্যাগে কী আছে?
- বলা যাবেনা!
* বলা যাবেনা, কেন?
- ব্যাগের সবকিছু আমার, এখানে প্রাইভেসি একটা  ম্যাটার! ফাঁস করা যাবেনা, ফাঁস করলে আবার কলিযুগ শুরু হতে পারে!
* পুলিশের সামনে কোন প্রাইভেসি চলে না! সে যাইহোক ব্যাগটা দিন।
- আপনি নিজের জায়গায় থাকুন, আমি নিজেই সবকিছু বের করছি।
* আচ্ছা, বের করুন।

প্রথম পুলিশটি আমার দিকে টর্চ ধরলেন। ব্যাগটা ঘাড় থেকে নামিয়ে হাটুর উপর নিলাম।
রিকশাচালকের মুখটা বেশ উজ্জ্বল, ভাবসাবে সে আমার লোক। আর পুলিশ তিনজন তীক্ষদৃষ্টিতে চেয়ে আছে- কী বের হচ্ছে?
তিনটা ডায়েরী, একটা মেডিসিন প্যাড, দুটো কলম, এক প্যাকেট জন প্লেয়ার, একটা লাইটার বের করে রিকশার সিটে রাখলাম। এতক্ষণ সব ঠিকই ছিলো। সবশেষে যখন একটা স্কচ মদের বোতল বের করে সামনে ধরলাম। সাথেসাথে পুলিশদের চোখ ছানাবড়া হয়ে গেলো! অন্যদিকে রিকসাচালকের চোখমুখ যেন চৈত্রের কাঠফাটা রোদে শুকিয়ে গেলো নিমিষেই! রাইসুল আজাদ আমার ডায়েরীগুলো হাতে নিয়ে দেখতে শুরু করলেন। এদিকে প্রথম পুলিশ দাতমুখ খিচিয়ে আমাকে বললো-

* ওওওও, এইজন্যে আই কার্ড দেখতে চাও! চোরের মায়ের বড়গলা! এইবার বুঝবা বাছাধন, কয় মাঘে শীত যায়! মাদকদ্রব্য নিয়া রাইতভর বেশ্যাবাড়ি ঘোরাঘুরি, এইবার টের পাবা।
আমি বললামঃ
- আমি চোর নই! এটা অনুমোদিত আর ভ্যাট দিয়ে সরকারি বার থেকে নিয়েছি, এইযে রশিদ। কালোবাজার এর মদ আমি খাইনা!
* এখানে তো হাফ বোতল মদ, বাকী অর্ধেক কই?
- জ্বি, বাকী অর্ধেক ১৪ নম্বর গোডাউনে জমা করা হয়েছে!
* ১৪ নম্বর গোডাউন!  সেটা কোথায়!?
- সেটা জানলে তো আর এই বয়সেও কনস্টেবল থাকতেন না! সোজা ওসির চেয়ারে বসে যেতেন। নিয়মিত মদ খান- মাথা খুলে যাবে!!

ডায়েরী দেখতে দেখতে হঠাৎই এস.আই রাইসুল আজাদ কেমন যেন হয়ে গেলেন! মনেহলো ঘটমান বিষয়াদি ওনার ভাল্লাগছেনা। ডায়েরী গুলি আমাকে ফেরত দিয়ে চরম বিরক্তি ভাব নিয়ে দ্বিতীয় পুলিশটিকে উদ্দেশ্য করে বললেনঃ
* মঈন সাহেব, ওর নাম, ঠিকানা, মোবাইল নম্বর নিয়ে ছেড়ে দিন। আর হ্যাঁ, কাগজে স্বাক্ষর নেবেন।

 তিনি বাইক স্টার্ট করে চলে গেলেন। দ্বিতীয় পুলিশ, মানে মঈন সাহেব তার কর্তব্যপালনে ব্যতিব্যস্ততা দেখানো শুরুকরে কাগজকলম হাতে নিলেন, কিছুটা কর্কশতার সুরে আমাকে বললেনঃ
* নাম কি?
- ইনসান
* নামের আগে পিছে কিছু নাই!?
- না, নেই।
*
-
*
-
এভাবে একের পর এক তথ্য নিয়ে কাগজটিকে সাদাকালো বানিয়ে আমার সামনে ধরলেন স্বাক্ষরের জন্য। কাগজটি ফিরিয়ে দিচ্ছিলাম এমন সময় আমাকে বললেনঃ
* মদ খাওয়া হারাম, জানো না?
-জ্বি, জানি!
* জেনেশুনে হারাম খাও কেন?
- ঘুষ খাওয়া হারাম! এইটা জেনেবুঝেও পুলিশ যেকারণে ঘুষ খায়, সেকারণে আমিও মদ খাই!

পুলিশেরা চলে গেল। রিকশাচালক প্যাডেল মারতে শুরু করলেন। খানিক পরপর পেছন ফিরে আমাকে দেখছে!
বললাম - মামা, কিছু বলবেন?
♪ না, মামা তেমন কিছু না, একনা কথা কবার চাই! যদি কিচু মনে না করেন!
- মদ খাবেন?
♪ হে হে হে, হয় মামা, জেবনেও খাই নাই! আইজ একটু খাবার মন চাইছিল আরকি। তা মামা, আমার মনের চাওয়া কেমন করিয়া বুঝলেন?
আমি চুপ করে থাকলাম, আর কিছুই বললাম না। রিকশা চলছে। আমাদের গন্তব্য রংপুর রেলস্টেশন। জ্যোৎস্নাময় রাত, শিরশির করে বইছে হিমেল হাওয়া। শাপলাচত্বর এলেই চোখ পরে গেলো বা দিকের রাস্তাটায়। তিন চারজন লোক জটলা বেধে কি যেন করছে, স্পষ্ট দেখা গেলো না। শাপলা সিনেমা হলের বিশাল পোস্টার ঝুলছে, এতরাতে কেউ আগে সিনেমার পোস্টার দেখেনি! আমি দেখবো। রিকশাওয়ালাকে থামতে বললাম। সে রিকশা থামালে স্কচের বোতলটি বের করে কিছুটা গলায় ঢেলে বাকীটা ওর হাতে দিলাম।

এখন মধ্যরাত, রিকশা চলছে। ট্রাক স্ট্যান্ড পার হয়ে খামার মোড়ের দিকে এগুচ্ছি আমরা। দুইদিকে ছোট আর মাঝারি বিল্ডিং। ঢাকা শহরের মত অত বড়বড় বিল্ডিং, রাস্তা, ইমারত, কারখানা এখানে নির্মিত না হবার কারণ কী? ধুর, এতরাতে শহর পরিকল্পক হওয়াটাও কি খুব জরুরী?
রিকশাটি এবার স্টেশন রোডে, রাস্তাটা বন্ধুর। ধ্যাপ- ধ্যাপ, লক্কড়-ঝক্কড় শব্দে এগিয়ে যাচ্ছি-নাকি পিছিয়ে যাচ্ছি বুঝতে পাচ্ছি না! তবে চাঁদ আর জোসনা একচুলও নড়ছে না, দুজনে লেপ্টে আছে আষ্টেপৃষ্ঠে, আর চলছে আমার সাথেই। 

মধ্যরাতে চলন্ত রিকশায় সিগারেট টানার ব্যাপারটা আসলেই অন্যরকম। তার উপর পূর্ণিমা, জনশূন্য রাস্তা,  নিস্তব্ধতার গহীনে ঘুমন্ত শহর, ল্যাম্পপোস্টে বাতিগুলো জ্বলছে- আর আমি পায়ের উপর পা রেখে সিগারেট টানছি! সবমিলিয়ে একটা রাজকীয় অনুভূতি। এমন সময় রিকশা থামিয়ে তড়িঘড়ি করে নেমে- গড়গড় করে বমি করে দিলো রিকশাচালক! বমির উৎকট গন্ধ নাকে লাগতেই রিকশা থেকে নেমে পড়লাম। আমার রাজকীয় মুডের মায়রে বাপ অবস্থা হয়ে গেলো! রাস্তার পাশের নলকূপের পানিতে হাতমুখ ধুয়ে এসে রিকশাচালক বলছে-

 - ' মামা, আইজকায় জীবনের পোতথোমবার বিদাশী মদ খাইচি তো, প্যাটে সয় নাই, বমি হয়া এক্কেরে সব ব্যারে গেলো! হিক! কিচু মনে করেন না মামা, ওটেন, গাড়িত ওটেন'। আমি কিছু না বলে রিকশায় উঠে বসলাম।

কিছুদূর এগিয়ে রিকশাচালক বলছে,
- মামা, আমি মুক্কুসুক্কু লোক ! কতা কইলে ভুল হয়া যাইতে পারে! যদিকাল কিচু মনত না নেন- তাইলে একনা কতা জিজ্ঞাস কইরবার চাই।
♪ কি জিজ্ঞেস করতে চাও মামা? বলো, আমি কিছু মনে করবো না।
- হে হে হে মামা, এত রাইতোত ইস্টিশন যাবার ধইরচেন! নিচ্চয় কোন কারণ আছে?
♪ হুম, আছে, কারণ তো কিছু একটা আছেই
- আমি বুইঝবার পারচি মামা, কী কারণ!
♪ কি বুঝেছো?
- হে হে হে... মাগি খুঁইজবার জন্যে যাবার ধইরচেন, তাই ন্যা মামা?
♪ কিভাবে বুঝলে?
- মদ খাইচি তো মামা, বেরেনের সবকয়টা দুয়ার খুলি গেইচে! হে হে হে...।

রিকশাচালকের কথা আর হাসির ধরণ দেখে মনে হলো সে আমাকে মদখোর, মাগিবাজ বলে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করছে! তার কথা শুনতে ভাল্লাগছে না! যদিও বলেছিলাম তার কথায় কিছু মনে করবো না, তবুও কিছু একটা মনে করেই ফেললাম! রিকশাটা স্টেশনের সামনে দাঁড়াতেই ওকে ছেড়ে দিলাম।

জোর খিদে পেয়েছে, প্লাটফর্মের ভেতরে দুটি চায়ের দোকান। এর একটিতে আমি প্রায়শই রাতে চা খেতে আসি, অন্যটিতে কখনো বসা হয়নি! কেন হয়নি? সেটা জানিনা। দুইটা ড্রাই কেক, একটা কলা দিয়ে মাঝরাতের ভোজন শেষে এক কাপ চা, চায়ের সাথে সিগারেট সবমিলিয়ে রাজভোগ উপভোগ করছি। এমন সময় একটা মেয়ে, পড়নে ময়লাটে সালোয়ারকামিজ, চুলগুলো রুক্ষ, কোটরাগত চোখের নীচে কালি পড়েছে! কতবছর ঘুমায় নি? কে জানে? মনেহয় এইমাত্র কোন দুর্ভিক্ষপীড়িত দেশভ্রমণ করে এলো! তবে শরীরেরগাঁট আছে। পাঁচ টাকা দামের একটি পাউরুটি নিয়ে চলে যাচ্ছে মেয়েটি। আমি তার পিছু নিলাম। নগ্ন পায়ে বিধ্বস্ত শরীরটাকে জোর করে সামনের দিকে টেনে নিয়ে পুরাতন প্লাটফর্মের শেডের আবছা আলোয় বসে কাগজে মোড়ানো পাউরুটি খেয়ে মসজিদের ওযুখানার কলে পানি পান করে আবার একই জায়গায় ফিরে আসলো। মসজিদের পানি শুধু ওযুর জন্য নয়, পান করাও যায়। অন্য ধর্মের লোকেরাও এখানে পানি পান করে কি? এই মেয়েটিই বা কোন ধর্মের?
মেয়েটির দিকে এগিয়ে গেলাম। ওর সামনে দাঁড়াতেই বললো-
- কাম করবেন নাকি চোষানি? কামের এক সটে ১০০, আর চোষানি ৫০।
ওর কথা শুনে কিছুমাত্র অবাক না হয়ে বললাম:
♪ না, না! ওসব কিচ্ছু নয়, আপনার সাথে কিছু কথা বলবো। বিনিময়ে আপনার সময়ের দাম দিয়ে দেবো!
- কতা কইবেন, আর তার জন্ন্যে টাকাও দেমেন! বুইচ্চি আপনে ভালে মানুষ। তা কি কতা কইবেন? মোর নাম কি, বাড়ি কোন্ঠে, এই লাইনত কেমন করি আইসলাম? এইগুলাইতো? এইগুলা কতা না ভাইজান- জেবনের ইতিহাস!
শোনেন ভাইজান, মোর নাম হাসি! বাড়ি লালমনিরহাট। মোর বয়স যকন ১৫ বচর, তকন মোর আপন মামা ফুসলিয়া ফুসলিয়া কাম করি প্যাট বানে দিচিলো! জানাজানি হবার ভয়ে মামা অমপুর আনিয়া ছাওয়া নষ্ট করি দেচে! তারপর মামার বন্দুর বাসাত কাজ দেচেলো, মামার বন্দু আর বন্দুর ব্যাটাও তিনটা বচর যা কইরবার তা কইরচে! মামাও মাজেমধ্যে আসিয়া খবর নিয়া যায়। কেমন করিয়া আবার প্যাট হয়া গেলো! মামার বন্দু ঔশদ দিয়া ছাওয়া নষ্ট করে দিবার পর যখন জানিবার পাইলো যে তার ব্যাটাও আমাক কাম করে! তখন বাড়ি থাকি বাইর করি দেচে! ওদি ফের আমার বাপটাও মরি গেলো! কোনটে যাবার জাগা নাই, কাওয়ো ফেরিতে ভাত না খোয়ায়! সবায় খালি দেহাটা চায়। তা যকন বুঝিবার পানু যে, মোর দেহাটার দাম আচে! তকন থাকিয়া দেহা ব্যাচেয়া খাই। এই হইল মোর কথা, আর কিছু কবার পাইম না! এলা পঞ্চাশটা টাকা দিয়া সারি যাও, কাশটোমার উলুকভুলুক কইরবার ধইরচে!"

ওর কথা শুনে আর কিছুই জিজ্ঞেস করলাম না! তার হাতে পঞ্চাশ টাকার নোট ধরিয়ে দিয়ে প্লাটফর্মের মাঝামাঝি স্থানে যাত্রীদের বসার জন্য একধরণের ফিক্সড চেয়ারের ব্যবস্থা আছে। একসাথে বারোটি চেয়ার- বেশ চমৎকার, আরামদায়কও বটে। এখানেই বসে পড়লাম। বামদিকে মাথা ঘুরালে ঐ মেয়েটাকে দেখা যায়। আমার সামনে তিনটি রেললাইন, তিন নম্বর রেললাইনের ওপর লালরঙের তিনটে মালগাড়ী। প্রথম দুটো ট্রাকের ডালার মত, তৃতীয়টি বাসের মত, তবে জানালা নেই, শুধু দরজা আছে! দরজাটা খোলাই! কিন্তু ভেতরটা দেখা যায়না! চাঁদের আলোতে ইঞ্জিন বিহীন মালগাড়িগুলো অসহায়, ইয়াতিম সদৃশ্য। রেললাইনের ওইপাশে একটা মাঠ, মাঠের শেষে রাস্তা, গাছ, ল্যাম্পপোস্ট, ডানে বায়ে বড়বড় দুটি বিল্ডিং, বিল্ডিং ঘিরেছে বাউন্ডারি ওয়াল। একটি ওয়ালে বড়করে চিকামারা,
 "নৌকা লাঙ্গল ধানেরশীষ, 
  সকল সাপের একই বিষ!" 
বসেবসে এসব দেখছিলাম আর ঐ মেয়েটার কথা ভাবছিলাম। তার নিজের মামা, মামার বন্ধু, বন্ধুর ছেলে, এবোরশন.....!

খানিক বামদিকে মাথা ঘোরাতেই দেখি, মেয়েটা রেললাইনের দিকে, তার পেছন পেছন দুজন যুবক। ওরা তিন নম্বর রেললাইনে দাঁড়িয়ে থাকা দরজাযুক্ত মালগাড়িটির কাছে গেলো। ছেলেদুটো মেয়েটাকে পাঁজাকোলা করে মালগাড়ীতে উঠিয়ে দিয়ে নিজেরাও উঠে ভেতরের দিকে চলে গেলো! দরজাটা খোলাই আছে, তবু ভেতরকার কিছুই দেখা যাচ্ছেনা, ভেতরে আলো নেই!
মিনিট বিশেক পর যুবক দুজন একএক করে লাফিয়ে নামলো, আর নেমেই উল্টোদিকে ভোঁ দৌড়! মালগাড়ীর ভেতর থেকে মেয়েটি চেঁচিয়ে বলছে, -
 -'ওই কুত্তার বাচ্চারা, আমার টাকা দিয়া যা। টাকা না দিয়া তোয়ার মা'র সাথে কাম করলিরে শুয়োরের বাচ্চারা, মাগির টাকা না দিয়া পালাইস! আল্লাহ তোদের বিচার কইরবে! তোদের ধোন খসি পইড়বেরে মাগির বাচ্চারা!"

মেয়েটির চেঁচামেচি শুনে কোথা হতে একজন রেলওয়ে পুলিশ দৌড়ে এলো। এসেই শাসাচ্ছে-
- আজ এই প্রোস্টিটিউট মাগির পিঠের চামড়া তুলে নেবো! এতবার নিষেধ করার পরও স্টেশনে ব্যবসা করছে! "
পুলিশটি এক হাতে লাঠি আর অন্যহাতে টর্চলাইট জ্বালিয়ে কথাগুলি বলতে বলতে হাসিকে ধরার জন্য তিন নম্বর রেললাইনের দিকে দ্রুতপায়ে যাচ্ছেন। ওদিকে মেয়েটি তাড়াহুড়ো করে মালগাড়ী থেকে নামতে গিয়ে ধপাস করে মুখথুবড়ে পড়ে গেলো। সে উঠে পালাবার আগেই পুলিশটি তার কাছে পৌঁছে গিয়ে বলছে-
- এই বেশ্যামাগি, উঠ, উঠে দাঁড়া, এই ডান্ডা আজ তোর... ইয়ের ভেতর ঢুকিয়ে সব সাধ মিটিয়ে দিয়ে- তারপর থানাপুলিশে খবর দিবো। এই বেশ্যামাগি, আকাম কুকাম করার জন্যে দুনিয়ায় আর জায়গা পাস নি! উঠ, এই উঠে দাঁড়া! তোকে আজ.........  "

পুলিশটি বকেই চলেছে অথচ মেয়েটি মাথা তুলছে না! পুলিশটি রেগে গিয়ে মেয়েটির শরীরে লাঠি দিয়ে গুঁতো মারলো, তবুও মেয়েটা নড়ছে না! এবার পুলিশটি চেঁচিয়ে উঠলো -
- এই, একিরে! এর মাথাতো পাথরে পড়ে ফেটে গেছে! হায় হায়... এখন কী করি?'
আমি দ্রুত সেখানে গিয়ে পুলিশটিকে জিজ্ঞেস করলাম-
♪ কী হয়েছে মেয়েটার?
- আরে ভাই, এটা মেয়ে না! এটা একটা বেশ্যা!
♪ দেখুন তার মাথা ফেটে গেছে, হাসপাতালে নেবার ব্যবস্থা করুন। নইলে মরে যাবে, আর মরে গেলে আপনাকেই জবাবদিহি করতে হবে!
- তা ঠিক বলেছেন, ঠিক বলেছে....ন"। মুখের কথা শেষ না করেই তিনি স্টেশনমাস্টারের অফিসকক্ষের দিকে মুখ ফিরিয়ে জোরে চেঁচিয়ে উঠলেন -
- এই মদন লাল, এই মদন লাল! মদন লাল!
ওদিক থেকে জবাব এলো - হা বাবু,.. হামি আছি বটে..! আইসতেকছি বাবু, হামি আইসতেকছি।

মদন লাল দৌড়ে এসে মেয়েটিকে উল্টিয়ে নিয়ে নাড়ীটীপে ধরলো। একবার ডানহাত আরেকবার বামহাত টিপে ধরলো। কিছুক্ষণ নাড়ীটেপার পর উঠে দাঁড়িয়ে বললো-
- ইয়ে ভ্রষ্টাচারী মাগিতো মারা গিয়া বাবু! উহার নাড়ি খুঁজিয়া পাইতেছিক লাই! ইয়ে ছিনালী মারা গিয়া হাজুর!!"
পুলিশটি বললো-
* এই শালি মরে নাই, মরে নাই- মদন লাল! বলো যে, মরে গিয়ে বেঁচে গেছে!
আমি ওদের দুজনকে উদ্দেশ্য করে বললাম -
♪ মেয়েটির নাম হাসি। বলুন- হাসি মরে নি, তাকে নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছে! আর খুনটা আমরাই করেছি!! এটা একটা ভয়ঙ্কর হত্যাকান্ড!

শেষবারেরমত হাসির মুখের দিকে চেয়ে দেখার সাহস হয়নি আমার। রাতের আধার আলোকছটা দেখে ভোর হতে চললো, ফজরের আযান শোনা যাচ্ছে। রেললাইনের পথ ধরে হাটতে হাটতে একটা কথা বারবার মনে পড়ছিলো-
" যেই বেশ্যাগো ইজ্জতের দাম দেওয়া শিখো নাই,
তাগো সময়ের দাম ক্যামনে দিবাইন?

                                                 (সমাপ্ত)

শেষরাতের গল্প
- ইবনে মিজান

আমার মৃত্যু নেই

আমার মৃত্যু নেই!
আছে খোলসের আত্মাহুতি।
তাই বলছি-
আমায় খোলসহীন দেখে
একফোঁটাও অশ্রুপাত করো না
ভেবোনা-
হারিয়ে যাচ্ছি সীমাহীন অন্ধকারে।
জেনে রেখো -
চলেছি সেখানেই, 
যেখানে মিলেছে প্রকৃত প্রেম
যেখানে একবারমাত্র সূর্যোদয়, 
সময়ঘড়িটাও থেমে যায়।
ওগো প্রিয়-
নিশ্চিন্তে চলে এসো 
দেখা হবে সেখানেই;
যেখানে -
আমাদের মৃত্যু নেই।

যৌবনপোড়া

শরীরের ভাঁজে ভাঁজে যৌনতা খুঁজে ফেরার সময় প্রেম থাকে? যদি থাকে, তবে ওরা সবাই প্রেমিক! যারা নগ্ন কিংবা অর্ধনগ্ন শরীর দেখলেই কাম দেবের আরাধনা করতে শুরু করেন। ভদ্রলোকের ভাষায়:
এটাকে যৌবনের অপব্যবহার বলা হয়।
আবার, পরস্ত্রীগমন করা ভদ্রলোকেরা দূরে মালী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন, সে মালী অন্যের গাছের ফল লতাপাতা গুল্ম রস নিংড়ে খাবেন, কিন্তু নিজের বাগানে হাত পর্যন্ত লাগাতে দেবেন না!
তার বাগানের চতুর্দিকে লাল পতাকা, হাজার কুড়ি খরচে নিরাপত্তার ঘেরাটোপ।
নিশ্চিন্ত নিরাপত্তার ঘেরাটোপে রক্ষিত গাছপাকা ফল
তার অজান্তেই নিশীথের বগদুল চেটেপুটে খায়।
বাগানে চৌদিকে ঘেরাটোপ থাকলেই কী!
উপরের দিকটাতে খেয়াল রাখতে পারেননি যে!!
শশব্যস্ত মালী তখন অন্যের বাগানে মৌচাষি!
অবশ্য কোনকিছুতে তার দোষ নেই,
ও বাগানের ডাল যদি হেলে আসে,
তবে আর কীই-বা করার থাকে?
তাছাড়া, প্রেমের দেবদেবীদের প্রভাব সর্বদাই বিদ্যমান।
তথাপি, ভদ্রলোকেরা -
একে যৌবনের প্রতি অত্যাচার, অপব্যয় বলছেন!
সে তারা যাখুশি বলুক।
প্রেম কি বাধা মেনেছে কখনো?
অথবা, নতি স্বীকারের মানদণ্ড?
এসবের প্রশ্নই আসে না!
দেখুনতো,
পাঁচতারা হোটেল থেকে মোটেল- কটেজ -বাংলো- খাসকামরা -পার্ক -রেস্তোরাঁ- অলিগলির চিপায়- রানু বৌদির বাসায় -কামরানের চিলেকোঠা- ছাত্র বেকার কর্মজীবীর হোস্টেল - পাশের বাড়ি -সেলিমের চায়ের দোকান -বাবুদের ফ্ল্যাট- নাশিদের কারে লংড্রাইভ-সরকারি কোয়ার্টার - পৃথিবীর কোথায় প্রেম নেই?
আচ্ছা, শরীরে কী প্রেম থাকে?
যদি থাকে, তবে ওরা সবাই প্রেমিক।
আসলে গাছপাকা ফল, পচে যায় না,
মানে পচতে দেয়া হয় না, তাই বগদুলে খায়!
এ বাগানের বগদুল ও বাগানে
ও বাগানের বগদুল সে বাগানে
সে বাগানের বগদুল এ বাগানে
ওরা বগদুল নামের পাহারাদার
এক বাগানের মধুতে ক'জনে তুষ্ট হয়?
ভদ্রলোকের ভাষায়:
যৌবনপোড়া মরাকাঠ দেহখানি তার
সর্বনাশের চেলাকাঠ খোঁজে পরপার।।

ক্ষমা চাই

ফুলগুলো সব যাচ্ছে ঝরে
রাখছি না কেউ খবর
নিত্যদিনই যাচ্ছি খুঁড়ে
নিত্যনতুন কবর! হায় হায়!

ডায়রিয়া আর ম্যালেরিয়া
কিংবা ডেঙ্গুজ্বরে
ধুঁকছে মানুষ মরছে মানুষ
কী লাভ হবে কয়ে? হায় হায়!

পড়ছি সবে ইন্না লিল্লাহ
পাঁজর যাচ্ছে ভেঙে
নিরুদ্দেশের যাত্রাপথে
বেহেশত নিচ্ছি মেঙ্গে! ক্ষমা চাই।

ক্ষমা করে দাও
প্রভু সুন্দর
ক্ষমা করে দাও মোরে
তাদের দিকেও খেয়াল রেখো
ওরা চলছে গায়ের জোরে! হায় হায়। 

পতিতা



আকাশের মন'টা সকাল থেকেই অন্ধকার,
তবে একপশলা বৃষ্টি হলে ভালই হতো,
টিনের চালে বৃষ্টির রিমঝিম থাকতো ;
বৃষ্টির জল গড়িয়ে যেত বারান্দার সামনে
দরদর করে পানিগুলো ছুটে যেত পুকুরের দিকে
একটা কবিতা লিখতে পারতাম!!!

মানুষের  ছুটে চলা নিরন্তর
এঁরা না'কি আলোর পথে-
সভ্যতার শুরু থেকেই ছুটছে!
বৃষ্টি হলে এঁদের নিরন্তর ছুটেচলা
ছাঁইপাশ ভেবে একটা কবিতা লিখতাম!!!!

প্রকৃতির নিয়মটাও বদলে গেছে
রঙ - ডঙটাও যেন গিরগিটী সেঁজেছে
কখন কি হচ্ছে বলা মুশকিল!
ঠিক যেন ছূটে চলা মানুষগুলোর মত;
বৃষ্টি হলে প্রকৃতির রং-রুপ বদলানো
এসব ভেবেই একটা কবিতা লিখতাম!!!!

নারীদেহে আসক্ত প্রিয় বন্ধুটি জানালো ;
শরীফা নাকি এখন পতিতা!
বিশ্বাস করতে মন সায় দেয়নি,
অকর্মা কবির দোলাচলে কি এসে যায়?
বন্ধুটি কিন্তু পতিত হয়নি!
বৃষ্টি এসো গেল, শরীফা'কে ভেবেই নাহয়
একটা কবিতা লিখে ফেলি;
কিন্তু তা কি'করে হয়?
সে তো পতিতা!!

ধর্মাবতার

ওরা কবরে
আমি চিতায়
কেন বল তো?
যেনো গন্ধ না ছড়ায়।
ধর্ম পালের শিলালিপিতে বলে দিয়েচে গোপাল
কেউ-ই এড়াতে পারে না কর্মফল;
আজগে যারা স্বর্গলাভের জন্য মর্ত্যের মায়া তুচ্ছ করছে- তারাই দেবতা চতুর্বেদী, আমি অসুর নতুবা শয়তান গোত্রীয়।

মহামতি ধর্মাবতার,
আমার দু'হাতেই কালি!
তুমি কী নিয়ে যাচ্চ?

পরিহাস

তোর চোখ অনাহারী যোনিতে
তার চোখ ভাতের হাড়িতে!
খিদের মূল্য চুকিয়েও__
পাপের উদ্রেক ঘটে গেল!
বুঝে আসে না,
জ্বালাময়ী পেটে কিসের পাপ?

শুনেছি,
নিয়তি উপর থেকে নির্ধারিত
তাহলে এটা!
এটা কী ধরনের নির্ধারণ?
আর ঐ পাপের দায় কার?
মাথায় ঢোকে না, কিছুতেই ঢুকছে না!

যাইহোক,
বিশ্বস্ত বার্তাবাহক জিব্রিল পদচ্যুত হননি বলেই জানি;
আশাকরি, বাহক মারফৎ বিষয়টি অবগত করবেন।

জগতে ___
ঢের দেখেছি, কুকুর;
অনেকেই গৃহপালিত
তারা খুশিতে আদুল হয়।
কেউকেউ বাধ্য হয়েই
কখনোবা ___
একমুঠো ভাতের জন্যই!

আপনিই বলুন,
এসব কি মেনে নেয়া যায়?
যায় না, যায় না, যায় না!
ভীষণরকম অসহ্য লাগে।

আপনি সর্বজ্ঞ!
তাই বলি, হে শক্তিমান _________________
প্রচলিত বন্দোবস্ত পদ্ধতিতে পরিবর্তন হোক।

°
°
°
পরিহাস
_____________ রশিদ ভাই।
তেইশ সাত কুড়ি