২৫ জুলাই, ২০২১

চিত্রা শালিক

 ভাইজান, 

হামায় চোর ন্যাতারা সাদু;

আর আমলারা?

ওমরা বাইষষালি কদু!


ও ভাইজান, 

ধান্দাবাজ আর চান্দাবাজে

ভরিয়া গ্যাছে দেশ! 

অথচ,

গান গপ্পো কবিতা ছন্দে

সোনার বাংলাই বেশ!!


কয়্যা কি আর লাভ আচে ভাই?

শুইনচে কে কার কথা? 

এইল্লা ভাবিলে নিদ আসে না 

বিষেয় খালি মাথা!!


ঐ নাটবল্টুর ক্ষেমতা পাওয়ার 

যাদের হাতে আচে

ওমরা

ন্যায়নীতি আর দেশ প্রেমটা 

খাইচে, অল্পদামে ব্যচে!


মানষি'টা মুই ক্ষুদ্র তেবু

এই দেশেরই মালিক

মূল্য বোঝে চিত্রা শালিক?

খোঁজে অর্থবিত্তের ধনিক!! 


"উৎসর্গঃ বড়ভাই M A Badsha, একসময়ে কলেজ পড়ুয়া রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ! ভালো থাকুন সবসময়, সত্য ন্যায় ও সুন্দরের সাথে থাকুন। ইনশাআল্লাহ, সুদিন উদ্ধারে এক কাতারেই থাকবো।"


°

°

°

নোংরা শালিক 

________________ রশিদ ভাই। 

পঁচিশ সাত একুশ

জয়া

 চাঁদের আলো বৃষ্টি হয়ে ঝরছে 

দিওয়ানা মন তোমায় পেতে চাইছে


রাতটা যতই হোকনা গভীর 

ঝরবে চাঁদের আলো

কিছুটা ভালোবেসো গো বন্ধু 

আমিও বাসবো ভালো..... 


চাঁদের আলোয় দেখেছি তোমায়

নিশুতি চাঁদনী রাতে

রাত পেরিয়ে ফুটেছে আলো 

মিলেছে অবনী প্রাতে!


আজ ভালবাসার গল্পগুলো 

লিখবো চাঁদের গায়

দূর থেকে চাঁদ ডাকছে জয়া 

আয়রে কাছে আয়।।


°

°

°

জয়া 

________________ রশিদ ভাই। 

চব্বিশ সাত একুশ

২৩ জুলাই, ২০২১

পতিতা

 পতিতা


আকাশের মন'টা সকাল থেকেই অন্ধকার,

তবে একপশলা বৃষ্টি হলে ভালই হতো,

টিনের চালে বৃষ্টির রিমঝিম থাকতো ;

বৃষ্টির জল গড়িয়ে যেত বারান্দার সামনে

দরদর করে পানিগুলো ছুটে যেত পুকুরের দিকে

একটা কবিতা লিখতে পারতাম!!!

মানুষের  ছুটে চলা নিরন্তর

এঁরা না'কি আলোর পথে-

সভ্যতার শুরু থেকেই ছুটছে!

বৃষ্টি হলে এঁদের নিরন্তর ছুটেচলা

ছাঁইপাশ ভেবে একটা কবিতা লিখতাম!!!!

প্রকৃতির নিয়মটাও বদলে গেছে

রঙ - ডঙটাও যেন গিরগিটী সেঁজেছে

কখন কি হচ্ছে বলা মুশকিল!

ঠিক যেন ছূটে চলা মানুষগুলোর মত;

বৃষ্টি হলে প্রকৃতির রং-রুপ বদলানো

এসব ভেবেই একটা কবিতা লিখতাম!!!!

নারীদেহে আসক্ত প্রিয় বন্ধুটি জানালো ;

শরীফা নাকি এখন পতিতা!

বিশ্বাস করতে মন সায় দেয়নি,

অকর্মা কবির দোলাচলে কি এসে যায়?

বন্ধুটি কিন্তু পতিত হয়নি!

বৃষ্টি এসো গেল, শরীফা'কে ভেবেই নাহয়

একটা কবিতা লিখে ফেলি;

কিন্তু তা কি'করে হয়?

সে তো পতিতা!!

২১ জুলাই, ২০২১

একটি ঘর

একটি ঘরের নির্মাণ শ্রমিকেরা মদ্যপান করতেন
কিছুসংখ্যক চোর ডাকাত লুটেরা খুনির দেয়া অর্থে
ঘরটির নির্মাণ ব্যয় নির্বাহ করা হয়,
বর্তমানে
একজন দায়িত্বশীল লেবাসধারী ব্যক্তি ঘরটির দেখভাল করছেন।


আজকাল দলেদলে উঁচুনিচু সুফি সাধু সন্ন্যাসী এবং
পাপীতাপী নারীপুরুষ সেখানে পবিত্র হতে আসেন!
অথচ, যিনি সকলকে পবিত্র করবেন
তিনি কখনোই সেখানে আসেন না!
অগত্যা,
আমিও তাকে ডেকেছি বহুবার
তিনি আসেন নি
দৈব চয়নে বলেন,
"হেথায় ডেকো না, আমি যেথাসেথা যাই না!"

ভেজাল সম্প্রদায়

 দুধে ভেজাল মাছে ভেজাল, ভেজাল সকল খাদ্যে

ভেজাল খেয়ে অসুখে শরীর ভেজাল ওষুধপথ্যে!

নেতা ভেজাল কর্মী ভেজাল

ও ভাই, ভেজালে ভরা দেশটা

এই দেশেতে চলছে এখন সাম্প্রদায়িকতার চেষ্টা।।


ইবনে মিজান

ঘটমান বর্তমান

২১ জুলাই ২০১৯

নিন্দুক

 তুমি করছো নিন্দা

যত্রতত্র প্রতিসন্ধা

তোমার জন্য আছে বান্ধা

একগুচ্ছ রজনীগন্ধা।।


তুমি আমার প্রিয় মিত্র

সারাদিন করো ষড়যন্ত্র

কে আছে আর এমন অত্র

তুমিই আমার প্রিয়পাত্র।।


তোমার জন্য সারাক্ষণি

নিজের ভূল নিজেই চিনি।।


= কোয়েল =

নারী

 কখনো তুমি আদরিণী

কখনো নয়ন মণি

কখনো সেঁজেছ পূজারিণী 

আবার কখনো মায়াবন বিহারিণী।


কখনো তুমি আবেদনময়ী 

কখনো বেসেছো ভাল

কখনো তুমি করেছো খেলা

হয়েছো রাতের আলো

সোনালী কৈশোর


ছিল সে রাজা, 

ছুটেছে সারাদিন, খেলেছে ডাংগুলি, 

কেঁটেছে সাঁতার তিস্তানদীর পাড়ে।

গাছে উঠে আম, পাড়ে দমাদম

কে রুখতে পারে?


আপন রাজ্যে ছিল সে রাজা

বাকি সব যেন, ছিল তার প্রজা,

রাজার রাজ্যের রাজ্যেশ্বরী

ছিলনাতো কোন অপ্সরী।।


দিনমান শুধু দস্যিপনা, হুটোপুটি খেলা

রাজ্যপাটে ছিলনা কোন অবহেলা,

সে রাজ্যে বসেছিল তিন বেলা

নিষ্পাপ জনতার মিলন মেলা।।


রাজ্যে সবাই সুখেই ছিল

ছিলনাতো কোন কষ্ট,

উজির, নাজির সকলে ছিল

কেউ ছিলনা আড়ষ্ট।।


বাবার শাসন, মায়ের আদরে

হয়েছিল রাজা দুষ্টু! 

সময়ের তালে হায়, দিন চলে যায়

 রাজা এখন বয়সে পরিপুষ্ট।।


রাজার রাজ্য নেইতো খালি

রাজাই ছেলেই রাজা,

রাজা-রানী, সভাষদ মিলি

সেঁজে আছে তাই প্রজা।।


যে সময় হায়, পার হয়ে যায়

সে আসে না আর ফিরে,

সোনালী কৈশোর স্মৃতি হয়ে রয়

বৃদ্ধ রাজার স্মৃতিনীড়ে।।


= কোয়েল =

কারাবাসী

 কারাবাসী


দেয়ালের বহিরাংশে তোমাদের পৃথিবী

বেঈমানেরা কেউ যাবে কি দেখে, কি সুখে আছি!


যার যেমন কর্মগুনে এসে পড়েছে জেলে,

এখানে প্রভাকর কঠিন নিয়ম মেনে চলে;

সূর্যোদয়ের আগেই ঘুম ভাঙতে হবে সেলে,

চার-চার করে বসতে হয় হিসাব মেলাতে গেলে;

সকাল হলেই পাঠালি গুড়,শুকনো রুটি মেলে

এই পৃথিবীর সকলেই তা গোগ্রাসে গিলে।।


দেয়ালঘেরা পৃথিবীতে এরা ৬০০ জন

সবাই যেন চিরচেনা, অতি আপনজন

কেউবা কেঁদে কূল পায়না, কেউবা খোঁজে মরণ

অপরাধী নয়তো সবাই, বিধাতার এ কেমন আচরণ?

মা আসে, বৌ আসে, আসে কত স্বজন

কেঁদেকেটে বুক ভাসায়, মুক্তি প্রয়োজন।।


মানুষের নাই মূল্য কোন, তার সাথে হয় অত্যাচার

খোদার কাছে নালিশ করারও নাই কোন উপায়ান্তর,

মানুষ যেন মানুষ নয়, গোবাদি পশুর ছানা

একদিন অত্যাচারিত মানুষগুলো করবে সব ফানাফানা।।


মিথ্যা দোষে অপরাধী এত! সামান্য কিছু দোষী,

বিনাদোষেই সাব্যস্ত দোষী, আজীবন কারাবাসী!

ভাগ্যাহত মানুষগুলো নিজভুমে পরবাসী,

ষড়যন্ত্রীর হবে কি বিচার, পরাতে গলায় ফাঁসি?


বিধাতার কী নাইরে বিচার,  

বন্ধ হবে কবে অন্যায় - অবিচার?

                                                           (সং ক্ষে পি ত)


 = কোয়েল =

হাতিবান্ধা: একটি রাক্ষসপুরীর গল্প

 হাতিবান্ধা: একটি রাক্ষসপুরীর গল্প। 


জাগতিক রাক্ষসপুরী হতে নাতিদূরত্বে অবস্থিত চাকচিক্যময়, মনোহরা, প্রিয়দর্শিনী এই নগরীর নাম হাতিবান্ধা; বাস্তবতার নিরীখে কল্পিত এক ভুল নগরী। এর নির্দিষ্ট কোন মহাদেশ, জেলা বা উপজেলা নেই! 


তার বাপ, মা, ভাই, বোন কিংবা আত্মীয়স্বজন?


পূর্বে ছিলেন বটে, তবে এখন আর কেউ নেই! 

 হঠাৎই সদলবলে কোথায় যেন মিলিয়ে গেছেন! 

কোথায় মিলিয়েছেন? তা অনাবিষ্কৃত,

ইতিহাসবেত্তাগণের মতে: "যেইদিন হতে বিশালদেহী এই নগরীর দখল নিয়েছেন ইহলোকের অপরাজেয় মহাবীর রাক্ষসরাজ, সেইদিন হতে তাদের আর কোথাও খুঁজে পাওয়া যায় নি!"

রাক্ষসবংশের সুনিপুণ কারিগরি দক্ষতা, দূরদর্শী নেতৃত্বে তিলেতিলে গড়ে উঠেছে এই তিলোত্তমা নগরী।  


চোখ ধাঁধানো রাক্ষসপুরীর অন্ধকার বন্দিশালায় হাতিবান্ধার বয়স একবিংশ শতাব্দীকাল পূর্ণ হতে চলেছে। সিংহাসনচ্যুত হাতিবান্ধার দুটো হাত বেঁধে, পায়ে শেকল পরানো হয়। মুখ হতে উপড়ে ফেলা দাত, নখাগ্র আর কেটে নেয়া জিহ্বামূল; - গোগ্রাসী রাক্ষসরাজ এবং তার বংশধরেরা মহা উল্লাসে হজম করেছেন বহু আগেই!


কৃত্রিমভাবে সৃষ্ট দৈন্যদশায় নির্যাতিত, নিপীড়িত হাতিবান্ধার কোন যোগ্য উত্তরসূরি আজও বেঁচে আছেন কিনা? তা সঠিক জানা যায়নি! 

তবে শোনা যায়, হাতিবান্ধা বংশধারার অনেকেই রাক্ষসবিবাহ করে মহাশক্তিধর রাক্ষসরাজের কৃপাদৃষ্টি অর্জন করেছেন এবং বহাল তবিয়তে ক্ষমতাসীন রাক্ষসবংশেই ঘরকন্না চালিয়ে যাচ্ছেন।


শত অন্যায়, নির্যাতন, নিপীড়ন সহ্য করে

তিলোত্তমার গর্ভজ বন্দিশালার অন্ধকূপে কোনরকমে বেঁচে আছেন অসহায় হাতিবান্ধা।

যদিবা তার হাত, পা আর কণ্ঠপথ অবরুদ্ধ;

তথাপি তার অন্তর এবং দৃষ্টিপথ সুদূরপ্রসারী। 

এ দুটির দখল কেউই নিতে পারেন নি কখনো! 

নিজের এহেন অক্ষমতাবশত -

সে কখনোই প্রতিবাদ করে নি, করতে পারে নি।


তবুও- 

মুক্তির স্বপ্ন দেখে হাতিবান্ধা

হ্যাঁ, তবুও স্বপ্ন দেখে- নিশ্চয়ই কোন একদিন; 

এই চাকচিক্যময় অন্ধকার কারাগারের বন্দিদশা হতে মুক্ত করতে পবিত্র আলোর মশালবাহী, দুর্দান্ত দাপুটে, দিগ্বিজয়কারী, ত্রাণকর্তা আসবেন; তিনি আসবেন, অবশ্যই আসবেন, তাকে যে আসতেই হবে ! 

অসহায় হাতিবান্ধা;

বিশ্বাসের আঁকড়ে ডুবে থাকে সারাক্ষণ, 

আর মনেপ্রাণে সেইদিনের স্বপ্ন দেখে!

যেইদিন খুব বেশী দূরে নয়....।।


০২:২৮/২১-০৭-২০১৮ খ্রিস্টাব্দ।

২০ জুলাই, ২০২১

ক্ষমা চাই

 ফুলগুলো সব যাচ্ছে ঝরে

রাখছি না কেউ খবর 

নিত্যদিনই যাচ্ছি খুঁড়ে

নিত্যনতুন কবর! হায় হায়!


ডায়রিয়া আর ম্যালেরিয়া 

কিংবা ডেঙ্গুজ্বরে

ধুঁকছে মানুষ মরছে মানুষ 

কী লাভ হবে কয়ে? হায় হায়!

পড়ছি সবে ইন্না লিল্লাহ 

পাঁজর যাচ্ছে ভেঙে 

নিরুদ্দেশের যাত্রাপথে 

বেহেশত নিচ্ছি মেঙ্গে! ক্ষমা চাই।

ক্ষমা করে দাও

প্রভু সুন্দর 

ক্ষমা করে দাও মোরে

তাদের দিকেও খেয়াল রেখো

ওরা চলছে গায়ের জোরে! হায় হায়।।


°

°

°

ক্ষমা চাই 

রশিদ ভাই

বিশ সাত কুড়ি।

১৯ জুলাই, ২০২১

বাহুবলী: পার্ট থ্রি

 আমাদের বাহুবলী চাঁন্দার ধান্ধায় রাজ্যের গৃহনির্মাণ প্রকল্প কর্তার নম্বরে ফোন করেছেন:

____ "কী মশায়, অসহায় ভূমিহীন গৃহহারা লোকেদের জইন্য গৃহনির্মাণ করছেন, ভালো কথা। কিন্তু, এই বাহুবলীর নামডা বেমালুম ভুইল্যা গ্যাছেন! ব্যাপারটা ক্যামোন হৈয়া গ্যালো না?"

অপরপ্রান্তে থাকা কর্তাব্যক্তি সানুগ্রহে বাহুবলীকে প্রকল্প এলাকায় আসতে বলেন। আহবান পাওয়া মাত্রই বাহুবলী তার সহচর কাট্টাপ্পা'কে নিয়ে মোটরসাইকেল যোগে গৃহনির্মাণ প্রকল্পে চলে যান।

কিন্তু, এ কি!

এখানে তো চাঁন্দা দেয়ার জন্য কর্তা ব্যক্তিদের কেউই উপস্থিত নাই!! 

পরিস্থিতিতে, বাহুবলী আর কাট্টাপ্পা'র মাথা গরম হৈতে থাকে। একপর্যায়ে রেগেমেগে বাহুবলী ঐ প্রকল্পের ঘরগুলোতে লাথি মারতে শুরু করেন! সাথে- সাথে কাট্টাপ্পা'ও শুরু হয়ে যান। তিনি খানিক বাদে বাদে  

"অমরেন্দ্র বাহুউউউ...বালী" বলে হুঙ্কার ছাড়েন আর বাহুবলীর সাথে সমানতালে ঘরগুলোতে লাত্থি ঘুষি মারতেই থাকেন! দুজনের লাথি আর ঘুষিতে ত্রিশটি ঘর নিমিষেই ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়ে যায়।

লাস্ট সিন:

একজন জুনিয়র আর্টিস্ট চিল্লাইয়া ফাল্লাইয়া কইতে থাকেন: 

" ঐ হমুন্দির পুতেরা, বাহুবলী আর কাট্টাপ্পা'র লাত্থি বইলে কতা, তগের এই ত্যাড়াংব্যাড়াং ঘর না ভাইঙ্গা যাইবো কৈ?"


....The End.....


°

°

°

বাহুবলী: পার্ট থ্রি! 

------------------------ রশিদ ভাই। 

ঊনিশ সাত একুশ

পাচেটেদেই

আপনি সেরা-আপনি মহান-আপনি মোদের ভাই

ও তল্লাটে আপনার চেয়ে যোগ্য কেহই নাই!  

আপনি মোদের অতীতজ্ঞ, দেবেন কর্মফল!

কৃতজ্ঞতায়ঃ  পাচেটেদেই  

আহা! মহামহিম পদতল.....  

° 

° 

পাচেটেদেই

 _______ রশিদ ভাই। 

ঊনিশ সাত একুশ