৩১ আগস্ট, ২০২০

ফিতনা

 একা একা কোথা যাও!

কোথা যাই বাপুরে?

এভাবে কি লোকালয়ে 

থাকা যায় বাবুরে?


তরবারি ভোতা করি

কোপ মেরে পাথরে

মাঠঘাট বাড়ি ছেড়ে 

চলে যাই বাদাড়ে!

ফলমূল পাতা খেয়ে 

যতদিন বাঁচা যায়

ততদিন বেঁচে থেকে 

পরপারে পাড়ি দেয়।


সত্যের ভিত নাই

চারিদিকে ফিতনা 

মৃত্যুতে শোক নাই

তাড়াতাড়ি দিক না!

ওয়াইন সিগারেট চিপস চানাচুর

 মোটের উপর কতবার,

কতজনের প্রেমে পরেছি?

সংখ্যাক্রমে হিসাব রাখিনি!

সপ্তকী ডায়েরির পাতা ফুরিয়ে গেলে

কোথাও লিখিনি কারো নাম।

 

যদি জানতেই চাও- তবে- দু'দিন, 

মাত্র ৪৮ ঘন্টা সময় দাও- 

জানিয়ে দেবো একদম।

তবে একটা শর্তাধীন -

ওয়াইন, সিগারেট, চিপস, চানাচুর-

খাইখরচা বিলটা তোমাকেই চুকাতে হবে!

কেননা-

আমার পকেট, আজও গড়েরমাঠ।


                   

২৬ আগস্ট, ২০২০

পুনর্জন্ম

 ওহে জল্লাদ, 

যেই বীরের ফাঁসি দিয়েছো

এই ভোরে তার জন্ম হলো

চেয়ে দেখো,

গলায় রশি প্যাঁচানোর দাগ!

২৫ আগস্ট, ২০২০

কবি

সত্যিই তুমি দুর্দমনীয়

ক্ষমতার উচ্চ শিখরে আসীন-

ওই ভন্ড সাধু, বক ধার্মিকের বিরুদ্ধে-

সদাজাগ্রত সচল তোমার কলম।


সত্যিই কবি তুমি নির্ভীক!

মৃত্যুভয় কখনওই তোমাকে করেনি তাড়া,

বরং মৃত্যুদূত তোমাকে দেখে সবেগে-

হাপিত্যেশ করে দৌড়ে পালিয়েছে!

অন্যায়, অবিচার আর শোষকের বিরুদ্ধে-

সমশের হয়ে উঠেছে তোমার কলম,

তুমি দুর্বার, তুমি দুর্মর, তুমি শোষকের প্রতি হুংকার।।


সবুজ প্রকৃতি লালিত হয় তোমার বুকে

ইট পাথরের পৃথিবী থেকে ভেসে আসে-

সবুজ শ্যামল সুন্দর পৃথিবীর ভাবাবেশ;

তোমার প্রতিটি কথা একেকটি স্বপ্ন!!


কবি, 

কোনকালে তোমার ছিলনা কোন স্বদেশ 

পুরো পৃথিবীই তোমার নিজের দেশ!

তোমার মৃত্যু নেই, তুমি অবিনশ্বর 

তুমি মিলেমিশে হয়ে আছো একাকার,

যুগে যুগে কালে কালে এসেছ তুমি;

তোমার জাত নেই,  পাত নেই-

ভালবাসার মৈত্রীসূত্রে বেঁধেছ জগত সংসার;

কবি, 

       তুমিই স্বপ্ন, তুমি সত্য, তুমি প্রতিজন্মে সুন্দর ।। 


(বিগত, আগত, অনাগত সকল কবিদের জন্য নিবেদন করলাম) 

২৫.০৮.২০১৭

১৪.৪৯ মি.।

২৪ আগস্ট, ২০২০

কিসের বড়াই

ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করছ কেন ভাই?

মানবতার চেয়ে বড় ধর্ম কোথাও নাই;

হাসি ফোটাও যদি তুমি নিপীড়িতের মুখে

সৃষ্টিকর্তা বাসবে ভাল রাখবে হরেক সুখে।।

আল্লাহ বলো, যীশু বলো, বলো ভগবান

মানুষেতে বাস করে সে, হয়েছে মহীয়ান ;

এই দুনিয়ার মায়া মোহ নয়তো বড়কিছু

মানবপ্রেম করলে খুশি হয় ভগবান যীশু।।

মানবপ্রেম যার মাঝে নেই সেইতো নরপশু

মানবক্ষতি হয়গো যদি মাফ করবেনা আল্লাহ-যীশু;

এই দুনিয়ার আর কোথাও, নাই ভগবান নাই

মানুষের মাঝে আল্লাহ-রাসুল, সব খুঁজিয়া পাই।।

মানুষ ভজ, মানুষ রচ, করো মানব বন্দনা

এই দুনিয়ায় তুমি আমি কেউই রইব না;

আল্লাহ যীশু ভগবানের দেখিনা কোন ভেদ

করছ তবে কিসের বড়াই, করছ ভেদাভেদ।। 

স্বর্গ-নরক, বেহেশত -দোজখ কিছুই দেখিনা

মানুষের মাঝে সবই আছে, কোথাও খুঁজিনা।।


২৩-৮-২০১৭

০১.৪৪

২৩ আগস্ট, ২০২০

স্ট্রেচার এবং ভালবাসা

 যেই লোকটার ___________

উরুতে চাপ দিলে গোড়ালি দিয়ে পুঁজ বেরুতো, তার ড্রেসিং করেছিলাম কয়েকবার। যখনই সে জরুরী বিভাগে আসতো, হাসপাতালের বারান্দাটা আপনা থেকেই জনশূন্য হয়ে যেতো! 

হঠাৎই একদিন __________

সে বিষপান করলে লোকেরা ধরাধরি করে হাসপাতালে নিয়ে আসে। তার গলায় নল ঢুকিয়ে পাকস্থলী ভর্তি বিষ বের করেছিলাম বলে সেযাত্রায় বেঁচে গিয়েছিল। 

কেন বিষপান করলে? জানতে চাইলে বলেছিল, "পায়ের অসহ্য যন্ত্রণা আর এই উৎকট পঁচা গন্ধ নিজেরই সহ্য হয় না, এর চাইতে মরে যাওয়াই ভালো" 

অতঃপর, তার উরুসন্ধির হাড় অবধি কেটে ডান পা'টা বিচ্ছিন্ন করেন রংপুর মেডিকেলের কোনো একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার! এখন সে স্ট্রেচারে ভর করে হাঁটছে, হাসছে, পান চিবোচ্ছে, লোকেরা তার কাছে গিয়ে গল্প করছে। আমায় এসে বললো, "ভাইজান, এখন বেশ ভালো আছি, ভিক্ষেটিক্ষেও ভালোই জুটছে"। আলাপ শেষে, সে আমায় এক প্যাকেট বেনসন সিগারেট দিয়ে বলেছিল, " ভাইজান, এটা ভালবাসার উপহার, আইজ আর না করবেন না!"

তার অল্প কিছুদিন পর কলিগের থেকে শুনতে পেলাম, সে চলন্ত রেলগাড়ী থেকে লাফিয়ে আত্মহত্যা করেছে! কেন? জানা গেলো, তার স্ত্রী জমানো টাকা-গহনা নিয়ে অন্যের হাত ধরে পালিয়েছে।


°

°

°


স্ট্রেচার এবং ভালবাসা 


______________ রশিদ ভাই। 

তেইশ আট কুড়ি

২২ আগস্ট, ২০২০

ধর্ষিত স্বদেশ

সুশীল বাবু -শুশীল বাবু

বলছেন না কেন কিছু?

মোশা মিয়ার ছোট মেয়েটার হলনাতো কিছু!


সেকি কথা!  গ্যাছেন ভূলে?

সেদিনকারই ব্যাথা!

টকশো'তে বলেছিলেন -

"থাকল মনে গাঁথা"।

যতক্ষণ না বিচার হবে-

গিলবেন না ফোটা পানি;

দুদিন আগের কথা বাবু-

ভুলে গ্যাছেন আজ এক্ষুনি!!


আজিজ মিয়ার বড় ছেলে

আজ থাকার কথা জেলে!

বুক চিতিয়ে বেড়ায় ঘুরে

অন্ধ আইন!

                 -কি বিচার করে?


ধর্ষিতা আজ কাঁদছে বাবু

অন্ধকার ঘরের কোনে;

ধর্ষিত আজ প্রিয় স্বদেশ

কেইবা কান্না শোনে!!


২৩-৮-২০১৭

২৩.২৩

তুমি ভালো নেই

ভাবতেই পারিনি!

এতদিন পর তোমার সাথে দেখা হবে,

এভাবে অবাক বিস্ময়ে দুজনার চেয়ে থাকা;

যেন সহস্র বছরপর পুনর্জন্মে দেখা হল-

সত্যিই অবিশ্বাস্য!

মনের ক্যানভাসে আঁকা ধূলিময় ছবিগুলো-

এতদিন পর আবার জীবন্ত হয়ে উঠতে পারে!

কখনো ভাবতে পেরেছিলে?

এতক্ষণ কাছাকাছি -শুধু দেখবেই!

কিছু বলবে না?


তোমার দীর্ঘশ্বাস, হতাশাচ্ছন্ন বদন

মনের ভিতরবাড়িতে করুণ আর্তনাদ 

একাকীত্বের নিদারুণ হাহাকার-

তবুও হাসিটা ধরে রাখার চেষ্টা!!


নিপুণ অভিনয় তোমার! ঠিক আগের মতই-

আজও তোমাকে বুঝতে ভুল হয়নি আমার,

তোমার চোখের তলদেশ জানিয়ে দিল-

তুমি ভাল নেই! তুমি ভাল নেই!!


বুকের ভেতরটা যেন চৈত্রের কাঠফাটা রোদে শুকিয়ে নিষ্প্রাণ হয়ে গেল,

হু হু শব্দে কাল বোশেখির ঝড় বয়ে যাচ্ছিল মনাকাশে।


তুমি চলে যেওনা-ফিরে এসো-

বারবার বলতে চেয়েও পারছি না!

তোমাকে আটকানোর দু:সাহস কখনো ছিলো কি আমার?

আমার ভেতরকার আমি বারবার চিৎকার করছিল-

কিন্তু সাহস করে মুখ ফুটে বলা হল না।

তোমার মনেও কি তাই-ই বলছিল? 

কতবার বলছিলে তুমি শুধু আমার,

আজ অন্তত একবার কথাফোটা রাখ!!


এ যে, তুমি! আমার তুমি;

সেই তুমি এখন অন্যের!

কাছের মানুষের থেকে এত কষ্ট তুমি কেন পাবে?

হয়ত আজ জানতে পেরেছ-

কতটা কষ্ট পেলে চোখ দিয়ে জলও আসেনা!


২২-৮-২০১৭

১৯.৪৭

২০ আগস্ট, ২০২০

কর্মই ধর্ম

সুদখোর ঘুষখোর 

ধড়িবাজ বাটপার 

গলাফেড়ে চিৎকার 

শান্তির দরকার! 


দিতে হয় যদি তবে

দিয়ে দেবে জানটা

দুনিয়ায় রেখে যাবে 

ধর্ম্মের মানটা!


ধর্ম্মের মর্মে

প্রশ্নটা কর্মে

কর্মই ধর্ম

বোঝেনা সে মর্ম!


১৬ আগস্ট, ২০২০

উপলব্ধ

 তীরবর্তী একটি গোরস্তান গর্ভে বিলীয়মান,

হায় হায় একি!

চোখের পলকে মিশে যায়,

অতঃপর, নিশানা উড়ায় স্নেহের ওয়ারিশান।


ওহে জ্ঞানী মালিকান ক্ষমতাশালী ধনবান

সাধের বসতভিটে

আর ঐ ডাঙ্গাজমি ছেড়ে কেন নিশানে অবস্থান?

এক পৃথিবীর ছোট্ট যে যবন

কতখানিই বা তার দাম?


°

°

°


 উপলব্ধ

_______________ রশিদ ভাই

ষোলো আট কুড়ি

১২ আগস্ট, ২০২০

ইহকালে শান্তি এবং পরকালীন মুক্তির জন্য লেখাটি পড়ুন।

 # ওসি প্রদীপ হিন্দু ধর্মের অনুসারী।

তার সমস্ত অপকর্মের জন্যে তাকে দোষারোপ করা গেলেও, তার ধর্মকে দোষারোপ করা যায় না! এই সহজ কথাটি একজন বিধর্মী ধর্মভীরু মানুষের পক্ষে বোঝা মুশকিল হয়ে যায়, যখন সে ধর্মান্ধে পরিনত হয়। 

# প্রিয়া সাহার মিথ্যাচারের জন্য সে মিথ্যেবাদী হলেও, এতে তার ধর্মের কোনো দায় নেই। কিন্তু, সে ধর্মটাকেই ব্যবহার করেছে।

# একজন হিন্দুধর্মের অনুসারী নিজের পোস্টে বলেন, "জ্ঞানার্জন নারীর জন্য নয়!" এইজাতীয় জ্ঞানপাপী প্রতিটি ধর্মানুসারীদের মধ্যে আছে। 

# আজকে সিলেট শাহজালালের দরগায় বোমা হামলার পরিকল্পনাকারী সাদের বাসায় তিনিসহ ৫জন মুসলিম উম্মাহ গ্রেফতার হয়েছেন। মুসলমান হয়েও পীরের দরগায় বোমা হামলার পরিকল্পনা কেন? মূলতঃ ধর্মীয় উন্মাদনা সৃষ্টি করাই এদের কাজ, ধর্মপ্রচার বা পালন নয়!

# অযোধ্যার বাবরি মসজিদ। এর স্থলে রাম মন্দির স্থাপন করতে গিয়ে শতবছর ধরে অসংখ্য মানুষকে প্রাণ হারাতে হয়েছে। ধর্ষিত হয়েছে অগুনিত নারী, অসংখ্য বাড়িঘর ভাংচুর, লুটপাট অগ্নিসংযোগসহ এমন কোন অপকর্ম নেই যা হয়নি। ঐ ভিকটিমদের সকলেই হিন্দু এবং মুসলিম, এই দুইটি ধর্মের অনুসারী ছিলেন। অদূর ভবিষ্যতে বর্তমান রাম মন্দিরকে কেন্দ্র করে নতুন রক্তক্ষরণের ইতিহাস জন্ম না হলেই ভালো। কিছুদিন আগে একটি গীর্জাকেও মসজিদে রূপান্তর করা হয়েছে। নিশ্চয়ই জানেন। 

# সৌদির শেঠেরা বাংলাদেশ থেকে যাওয়া গৃহকর্মীদের সাথে যা-কিছু করেছেন-করছেন। তার জন্য ইসলাম দায়ী নয়, শেঠেরাই দায়ী। অথচ, তাদের পুঁজি ইসলাম।

# একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ইসলামের অপব্যাখ্যা দিয়ে অসহায় নিরস্ত্র বাঙ্গালির প্রতি কোন অন্যায়টি করে নাই? স্বাধীন বাংলার মাটিতে তাদের বংশধরেরা আজও ইসলামের অপব্যবহার করে চলেছে। 

# মসজিদ-মন্দির-গীর্জা-প্যাগোডায় লোকেরা দেদারসে মাল ঢালেন। অথচ, অনাহারী মুখের দিকে খেয়াল নেই! 

# মুসলিম রাষ্ট্রের উপর খ্রিস্টান ইহুদি নাস্তিকদের অত্যাচার নির্যাতন দেখলেই তাদের ধর্মকে দায়ী করা যায় না। নিশ্চয়ই, তাদের ঈশ্বর এমনভাবে ধর্মপ্রতিষ্ঠা করতে বলেননি। 

# মায়ানমারের নাগরিক হওয়া স্বত্বেও, শুধুমাত্র মুসলিম ধর্মের অনুসারী হওয়ায় রোহিঙ্গাদের এই অবস্থা। এজন্য সুচির সরকার দায়ী, এতে গৌতম বুদ্ধের হাত নেই! ভারতের এনআরসি নামক প্রহসনের গল্পটি রচনায় ব্রহ্মা বিষ্ণু মহেশ্বর কারোরই অনুমতি আছে কি?          

____ উপরিউক্ত প্রবণতা/অপকর্মের সাথে কারা যুক্ত? যারা ধর্মকে স্বার্থসিদ্ধির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে। তারাই সহজসরল জীবনযাপনে অভ্যস্ত ধর্মভীরু লোকেদের জান্নাত-স্বর্গ-হ্যাভেনের লোভ দেখিয়ে কিংবা জাহান্নাম-নরক-হেল এর ভয় দেখিয়ে যাখুশি তাই করিয়ে নিচ্ছে। ওরা ধর্মের শত্রু, মানবতার শত্রু। 

পৃথিবীর সকল মানুষকে ধর্মের উদারচিন্তার প্রতি মনোযোগী করতে হবে, ধর্মের প্রকৃত শিক্ষা মানবপ্রেম। মানবপ্রেমের শিক্ষাটা মানুষকে দিতে হবে। মুসলিম/হিন্দু/বৌদ্ধ/খ্রিস্টান/আস্তিক/নাস্তিকদের কোনপ্রকার উগ্রবাদী মতবাদ কখনোই কোনো ধর্মের শিক্ষা হতে পারে না! এই সহজ কথাটি আমলে নেয়ার জন্য সকলকে সচেতন করতে হবে। 

সুতরাং, ধর্ম সম্পর্কে জানতে হবে, জানাতে হবে।এটা অচ্ছুৎ নয় যে এবিষয়ে কথাই বলা যাবে না!!! বরং, ধর্ম ইহকালে শান্তি এবং পরকালীন মুক্তির একমাত্র রাস্তা। অতএব, দুনিয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠা তথা মানবতার বিজয় অর্জন করতে হলে ধর্মের ইতিবাচক  আলোচনা হওয়া উচিত। কোনো ধর্মই কাউকে ভুল কিংবা অপরাধের শিক্ষা দেয় না! অপরাধী শয়তান/অসুর/ডেভিলেরা ধর্মের অপব্যাখ্যা করে নিজেদের স্বার্থ হাসিলের ধান্দায় অপব্যবহার করে মাত্র।


★★★ সকল অপশক্তির বিরুদ্ধে সত্য ও সুন্দরের  আওয়াজ তুলতে হলে ধর্মের সম্যক আলোচনা হওয়া উচিত নয় কি? 

# মনে রাখবেন, সরলবিশ্বাসে করা অপরাধের জন্য মানুষ দায়ী নয়, দায়ী সেই ব্যক্তি-যে প্ররোচক হিসেবে কাজ করে। 


°

°

°

_____________ রশিদ ভাই। 

বারো আট কুড়ি

১১ আগস্ট, ২০২০

বাঁচতে দাও

 মানবরূপে জন্ম নেয়া যদি পাপ হয়

তবে সে পাপ, আমার একার নয়!

ঐযে মসজিদে আযান দেয়া বিল্লাল, 

মন্দিরের পূজারী হরিলাল, ফাদার ডিসুজা-

মঠাধীশ জ্ঞানভিক্ষু তারাও কি পাপী নয়!?

নাকি তারা মানুষ বৈ অন্যকিছু!?

জগতের সকল পাপ কেন শুধু আমারই হয়?

উত্তর দাও- কী হলো তোমাদের? দাও- উত্তর দাও!

চুপ থেকো না আর- আমার উত্তর চাই, উত্তর! 


অদেখা ঈশ্বরের প্রতি তোমাদের অগাধ বিশ্বাস-শ্রদ্ধা-ভক্তি-ভালোবাসা! অথচ, চোখের সামনে থাকা মানুষগুলোর প্রতি এর কোনটাই নেই!

কেন নেই? 

বলো কেন নেই?

তোমাদের ঈশ্বর কি মানুষের চাইতেও বড়!?

নতুবা কি চায় তোমাদের ঈশ্বর- রক্ত! মাংস! প্রাণ!!

প্রশ্ন জাগে মনে- 

অসহায় মানুষের হাড়গোড় রক্তমাশে কিভাবে শান্ত হয় তোমাদের ঈশ্বর!?

কেনইবা পৃথিবীটাকে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র খন্ডে ভাগ করে মহাদেশ-দেশ-ধর্ম-বর্ণ-জাত-পাতের লেবেল সাঁটিয়ে মানুষকে পৃথক করেছো নিজের পৃথিবী থেকে?


হে মুখোশে মানবের দল -

কী হলো তোমাদের? 

উত্তর দাও- উত্তর!

একদমই চুপ থেকো না আর- আমার উত্তর চাই, উত্তর!

যদিবা আমি জানি, তোমরা অনেকটা অসহায়!

কেননা, সদুত্তর তোমরা জানো না!

কোনদিনই জানতে পারো নি সত্য!

বস্তুতপক্ষে, তোমরা মিথ্যেবাদী- জন্মান্ধ

যারা মানুষের পৃথিবীটা ঈশ্বরের হাতে তুলে দিতে চাও!

নাকি তোমরাই- ঈশ্বরকে ভুল পথে পরিচালিত করছো?

এক্ষণে আমি সত্যিই দ্বিধান্বিত!

তোমরা আসলে কী চাও?

ঈশ্বর চাও!

তো নাও না, কে আটকেছে তাকে?

তোমরা ভালো থাকো তোমাদের ঈশ্বর সমেত

স্বর্গলোকের হুর, দুধের নহর, ফুলের বাগান, শরাবের ঝর্ণামুখে মহানন্দে সাতরাতে থাকো অনাদিকাল

কেউ বাধা হয়ে দাঁড়াবে না সম্মুখ।

অগত্যা আমরা সেথা অগ্নিকুন্ডের জ্বালানিই হবো-

তবুও তোমরা থেমে যাও; যথেষ্ট হয়েছে-

ঈশ্বরের উপরে আর হাত বাড়িয়ো না!

মানুষের পৃথিবীতে, মানুষকে বাঁচতে দাও।

০৯ আগস্ট, ২০২০

ভালবাসো মানুষে, উড়ো নাকো ফানুসে

 ধর্মের গান গায়

মানুষের প্রাণ যায়

একেমন ধর্ম এলো রে?


অযাচিত শত দল

করে যায় শোরগোল 

ধর্মান্ধের দল ছোটে রে!


মজ্জিদ-মন্দির

আল্লাহ না ভগবান? 

জানো তুমি-

কে কোথায় থাকে রে?


ধর্মের জন্য 

মানবের দরকার 

মানুষে কী ধর্ম লাগে রে?


বিধাতার দুনিয়ায় 

ধর্ম সে কিছু নয়

ভালো আর মন্দ বোঝে রে!


জীবে প্রেম করে যেই 

ঈশ্বর পাবে সেই

তার তূল্য কে আছে রে?


ভালবাসো মানুষে

উড়ো নাকো ফানুসে 

মরণের পরে কী লাগে রে?



___________ রশিদ ভাই। 

নয় আট কুড়ি

কে বড়?

 আহা!

বেশ বলেছো ভাইয়া তুমি

বেশ বলেছো দাদা!

জল আর পানি একই জিনিস 

যে বোঝেনি সে গাধা!


ওরে,

গাধার রাজ্যে শেয়াল মন্ত্রী 

আমার দুনিয়াটা গনতন্ত্রী

তবুও?

ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি 

মজ্জিদ মন্দির কাড়াকাড়ি 

অহেতুক মারামারি

কে বড় এই প্রশ্নে!


°

°

°


উৎসর্গীকৃত to সুমন দা

বসা যায় শুতে নেই

 ঘোড়া নেই গাড়ি আছে

ক্ষমতার জোরে আছে

আমাদের তুলারাম! 

     তুলো নেই রাশি আছে

    গভীরের পোঁতে আছে

     তুলা দা'র নিধিরাম!

নেই বিধি বাম আছে

রক্ত বা ঘাম আছে

খাদের কিনারে পোঁছে

জীবনের কত দাম?

   খেলা নেই ধুলো আছে

   ক্ষেত নেই মুলো আছে

   ঝুলে গেলো তুলারাম! 

ক্ষমতার ভাগাভাগি 

কাটাকাটি রাগারাগি 

মরে গেলে নিধিরাম! 

   বিধিমতে বিধু বাবু 

   করে গেলো হাবুডুবু 

   জুজুর ভয়েতে কাবু

   মেলে নাম ভোঁদারাম! 


পোঁতে আর পোঁতা নেই

আঁতিপাঁতি ভোঁতা নেই

ক্ষমতার খুঁটি গেড়ে 

বসা যায়-শুতে নেই!!!

সময় হাতে নাইরে

 বলছে আমার পরাণ পাখি

দুনিয়াদারি সবই ফাঁকি

এখানে আর থাকতে চাইনা ভাইরে

চলে যাবো সময় হাতে নাইরে।।


আছেরে তোর বাড়ীগাড়ি

ক্ষমতাআর জমিদারী।।

মাটির কলস ভর্তি তাড়ি -

আমিতো আর চাইনা কিছু ভাইরে

চলে যাবো সময় হাতে নাইরে।।


সাথে তোর সুন্দরি নারী

সোনারূপোর ছড়াছড়ি।। 

কোটিপতির বাহাদুরি -

আমিতো আর চাইনা কিছুই ভাইরে

চলে যাবো সময় হাতে নাইরে।।


ওপার হতে ডাক এসেছে

কপালেতে ভাঁজ পরেছে।।

চুলেতে পাক ধরেছে

পরপারে যেতে হবে ভাইরে

চলে যাবো সময় হাতে নাইরে।।


আমলের খাতা ভরে

যেতে হবে পরপারে।।

খাতাখানি শূন্য পড়ে-

খালিহাতে কেমন করে যাইরে

ভোগেরখেলা বন্ধ করো ভাইরে।।


আমার____

পরাণ পাখি বলছে ডাকি

দুনিয়াদারি সবই ফাঁকি

আমিতো চাইনা কিছুই ভাইরে

খালি হাতে কেমন করে যাইরে।।

পরপারে যেতে হবে ভাইরে...

চলে যাবো সময় হাতে নাইরে।।.....

ধর্মান্ধ

 তুমি মারো আমারে

আমি মারি তোমারে

এই ভুল শিক্ষা -

দিলো কার খোদা রে?


ধর্মটা যার যার

কর্মের চাদরে

চলো সবে মিলেমিশে 

থাকি খুব আদরে!


তুমি আমি দাদা-ভাই

রক্তে তো ভেদ নাই!

কেন তবে মিছেমিছি 

রক্তের হোলি চাই?


আনিলো যে ধর্ম শান্তির দরিয়া

যুগেযুগে মরে লোক তাহারই লাগিয়া

ধর্মের ধোঁয়া তুলে মানুষের দুনিয়ায়

সারাক্ষণ গিলে খায় ধার্মিক চুতিয়ায়।।

০৪ আগস্ট, ২০২০

ঢাকা শহর


আহা! ঢাকা শহর!

রঙবেরঙ্গের গাড়ি -বাড়ি
চলছে হেথায় ভুড়িভুড়ি
চলছে মোদের ঘুরাঘুরি
সুখের যেন ছড়াছড়ি!!

যতই থাকুক তাড়াতাড়ি
চলছে রাস্তার খোঁড়াখুঁড়ি 
টাকা খরচ কাড়িকাড়ি
কর্পোরেশনের বাড়াবাড়ি!!

যানজট হেথায় মহামারী
সবখানেতে দাঁড়িয়ে গাড়ি
উন্নয়ন নেই কানাকড়ি
সড়ক যেন মৃত্যুপুরী!!

মজার কথা বলছি হরি
একটু বৃষ্টিতেই বন্যা হেরী
হবেনা তোমার কোন দেরী
নৌকা আছে, কিসের দেরী?

কল্যাণপুর, ঢাকা
৪-৮-২০১৭

কে বাঁচাবে কাকা?


মজার শহর ঢাকারে ভাই
মজার শহর ঢাকা
চারিদিকে দালান বাড়ি
একটুও নাই ফাঁকা!!

সারাদিনই চলছে গাড়ি
ঘুরছে গাড়ির চাকা
বেশি বেশি ঘুরতে গেলে
পকেট হবে ফাঁকা!!

দিনমান শুধু ছুটছে সবাই
হয়না বসে থাকা
যানজটে পড়লে গাড়ি
ঘন্টাধরে বসে থাকা!!

বৃষ্টি এলে বন্যা হয় - 
হয়নি আগে দেখা
রাস্তার উপর নৌকা চলে 
কত মজার ঢাকা!!

ঢাকায় নাকি টাকা ওড়ে
আগে বুঝি নাই কাকা!
এসব দেখেই বুঝতে পেলুম,
রাজ্কোষ হচ্ছে খালি-
লুটপাট হচ্ছে টাকা!!

এখান থেকেই ঘুরতে থাকে
দেশের উন্নয়নের চাকা
ঢাকারই আজ বেহাল দশা
কে বাঁচাবে কাকা??

কল্যাণপুর, ঢাকা
২-৮-২০১৭

জোছনাকুমারী



মাঝে মাঝে বলে এই পাগলা মন আমার
বাড়ী ঘর সংসার ছেড়ে হয়ে যাব যাযাবর
সাথে কেউ নাইবা থাকুক, থাকবে কবিতা
ভালবেসে লিখে যাব জীবনের যতকথা ।।

চাঁদ থাকুক, নাই বা থাকুক কি যায় আসে তাতে
থাকব আমি মহাখুশি পেঁয়াজ আর পান্তাভাতে
একা একা থাকব পড়ে যেখানেই আসবে সন্ধ্যা
স্বপ্নের মাঝে জোছনাকুমারীর হাতে পরব বান্ধা।।

জোছনাকুমারী এসে নিয়ে যাবে আমাকে
রাতগুলো কেটে যাবে ভালবাসার আবেশে
ভালবেসে গড়ব আমরা, ভালবাসার মহীসোপান
লিখে যাব ভালবাসি, তোমায় আমি অফুরান ।।

থাকবে না দু:খ কষ্ট, থাকবে না কোন পিছুটান
ভালবেসে চাইবে না কেউ, ভালবাসার প্রতিদান
তোমায় কত ভালবাসি, কেমনে তোমায় বুঝাই
এই বুকে কষ্ট আছে, জমে আছে যন্ত্রনার ছাই ।।