১২ আগস্ট, ২০২০

ইহকালে শান্তি এবং পরকালীন মুক্তির জন্য লেখাটি পড়ুন।

 # ওসি প্রদীপ হিন্দু ধর্মের অনুসারী।

তার সমস্ত অপকর্মের জন্যে তাকে দোষারোপ করা গেলেও, তার ধর্মকে দোষারোপ করা যায় না! এই সহজ কথাটি একজন বিধর্মী ধর্মভীরু মানুষের পক্ষে বোঝা মুশকিল হয়ে যায়, যখন সে ধর্মান্ধে পরিনত হয়। 

# প্রিয়া সাহার মিথ্যাচারের জন্য সে মিথ্যেবাদী হলেও, এতে তার ধর্মের কোনো দায় নেই। কিন্তু, সে ধর্মটাকেই ব্যবহার করেছে।

# একজন হিন্দুধর্মের অনুসারী নিজের পোস্টে বলেন, "জ্ঞানার্জন নারীর জন্য নয়!" এইজাতীয় জ্ঞানপাপী প্রতিটি ধর্মানুসারীদের মধ্যে আছে। 

# আজকে সিলেট শাহজালালের দরগায় বোমা হামলার পরিকল্পনাকারী সাদের বাসায় তিনিসহ ৫জন মুসলিম উম্মাহ গ্রেফতার হয়েছেন। মুসলমান হয়েও পীরের দরগায় বোমা হামলার পরিকল্পনা কেন? মূলতঃ ধর্মীয় উন্মাদনা সৃষ্টি করাই এদের কাজ, ধর্মপ্রচার বা পালন নয়!

# অযোধ্যার বাবরি মসজিদ। এর স্থলে রাম মন্দির স্থাপন করতে গিয়ে শতবছর ধরে অসংখ্য মানুষকে প্রাণ হারাতে হয়েছে। ধর্ষিত হয়েছে অগুনিত নারী, অসংখ্য বাড়িঘর ভাংচুর, লুটপাট অগ্নিসংযোগসহ এমন কোন অপকর্ম নেই যা হয়নি। ঐ ভিকটিমদের সকলেই হিন্দু এবং মুসলিম, এই দুইটি ধর্মের অনুসারী ছিলেন। অদূর ভবিষ্যতে বর্তমান রাম মন্দিরকে কেন্দ্র করে নতুন রক্তক্ষরণের ইতিহাস জন্ম না হলেই ভালো। কিছুদিন আগে একটি গীর্জাকেও মসজিদে রূপান্তর করা হয়েছে। নিশ্চয়ই জানেন। 

# সৌদির শেঠেরা বাংলাদেশ থেকে যাওয়া গৃহকর্মীদের সাথে যা-কিছু করেছেন-করছেন। তার জন্য ইসলাম দায়ী নয়, শেঠেরাই দায়ী। অথচ, তাদের পুঁজি ইসলাম।

# একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ইসলামের অপব্যাখ্যা দিয়ে অসহায় নিরস্ত্র বাঙ্গালির প্রতি কোন অন্যায়টি করে নাই? স্বাধীন বাংলার মাটিতে তাদের বংশধরেরা আজও ইসলামের অপব্যবহার করে চলেছে। 

# মসজিদ-মন্দির-গীর্জা-প্যাগোডায় লোকেরা দেদারসে মাল ঢালেন। অথচ, অনাহারী মুখের দিকে খেয়াল নেই! 

# মুসলিম রাষ্ট্রের উপর খ্রিস্টান ইহুদি নাস্তিকদের অত্যাচার নির্যাতন দেখলেই তাদের ধর্মকে দায়ী করা যায় না। নিশ্চয়ই, তাদের ঈশ্বর এমনভাবে ধর্মপ্রতিষ্ঠা করতে বলেননি। 

# মায়ানমারের নাগরিক হওয়া স্বত্বেও, শুধুমাত্র মুসলিম ধর্মের অনুসারী হওয়ায় রোহিঙ্গাদের এই অবস্থা। এজন্য সুচির সরকার দায়ী, এতে গৌতম বুদ্ধের হাত নেই! ভারতের এনআরসি নামক প্রহসনের গল্পটি রচনায় ব্রহ্মা বিষ্ণু মহেশ্বর কারোরই অনুমতি আছে কি?          

____ উপরিউক্ত প্রবণতা/অপকর্মের সাথে কারা যুক্ত? যারা ধর্মকে স্বার্থসিদ্ধির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে। তারাই সহজসরল জীবনযাপনে অভ্যস্ত ধর্মভীরু লোকেদের জান্নাত-স্বর্গ-হ্যাভেনের লোভ দেখিয়ে কিংবা জাহান্নাম-নরক-হেল এর ভয় দেখিয়ে যাখুশি তাই করিয়ে নিচ্ছে। ওরা ধর্মের শত্রু, মানবতার শত্রু। 

পৃথিবীর সকল মানুষকে ধর্মের উদারচিন্তার প্রতি মনোযোগী করতে হবে, ধর্মের প্রকৃত শিক্ষা মানবপ্রেম। মানবপ্রেমের শিক্ষাটা মানুষকে দিতে হবে। মুসলিম/হিন্দু/বৌদ্ধ/খ্রিস্টান/আস্তিক/নাস্তিকদের কোনপ্রকার উগ্রবাদী মতবাদ কখনোই কোনো ধর্মের শিক্ষা হতে পারে না! এই সহজ কথাটি আমলে নেয়ার জন্য সকলকে সচেতন করতে হবে। 

সুতরাং, ধর্ম সম্পর্কে জানতে হবে, জানাতে হবে।এটা অচ্ছুৎ নয় যে এবিষয়ে কথাই বলা যাবে না!!! বরং, ধর্ম ইহকালে শান্তি এবং পরকালীন মুক্তির একমাত্র রাস্তা। অতএব, দুনিয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠা তথা মানবতার বিজয় অর্জন করতে হলে ধর্মের ইতিবাচক  আলোচনা হওয়া উচিত। কোনো ধর্মই কাউকে ভুল কিংবা অপরাধের শিক্ষা দেয় না! অপরাধী শয়তান/অসুর/ডেভিলেরা ধর্মের অপব্যাখ্যা করে নিজেদের স্বার্থ হাসিলের ধান্দায় অপব্যবহার করে মাত্র।


★★★ সকল অপশক্তির বিরুদ্ধে সত্য ও সুন্দরের  আওয়াজ তুলতে হলে ধর্মের সম্যক আলোচনা হওয়া উচিত নয় কি? 

# মনে রাখবেন, সরলবিশ্বাসে করা অপরাধের জন্য মানুষ দায়ী নয়, দায়ী সেই ব্যক্তি-যে প্ররোচক হিসেবে কাজ করে। 


°

°

°

_____________ রশিদ ভাই। 

বারো আট কুড়ি

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন