২১ জুলাই, ২০২১

হাতিবান্ধা: একটি রাক্ষসপুরীর গল্প

 হাতিবান্ধা: একটি রাক্ষসপুরীর গল্প। 


জাগতিক রাক্ষসপুরী হতে নাতিদূরত্বে অবস্থিত চাকচিক্যময়, মনোহরা, প্রিয়দর্শিনী এই নগরীর নাম হাতিবান্ধা; বাস্তবতার নিরীখে কল্পিত এক ভুল নগরী। এর নির্দিষ্ট কোন মহাদেশ, জেলা বা উপজেলা নেই! 


তার বাপ, মা, ভাই, বোন কিংবা আত্মীয়স্বজন?


পূর্বে ছিলেন বটে, তবে এখন আর কেউ নেই! 

 হঠাৎই সদলবলে কোথায় যেন মিলিয়ে গেছেন! 

কোথায় মিলিয়েছেন? তা অনাবিষ্কৃত,

ইতিহাসবেত্তাগণের মতে: "যেইদিন হতে বিশালদেহী এই নগরীর দখল নিয়েছেন ইহলোকের অপরাজেয় মহাবীর রাক্ষসরাজ, সেইদিন হতে তাদের আর কোথাও খুঁজে পাওয়া যায় নি!"

রাক্ষসবংশের সুনিপুণ কারিগরি দক্ষতা, দূরদর্শী নেতৃত্বে তিলেতিলে গড়ে উঠেছে এই তিলোত্তমা নগরী।  


চোখ ধাঁধানো রাক্ষসপুরীর অন্ধকার বন্দিশালায় হাতিবান্ধার বয়স একবিংশ শতাব্দীকাল পূর্ণ হতে চলেছে। সিংহাসনচ্যুত হাতিবান্ধার দুটো হাত বেঁধে, পায়ে শেকল পরানো হয়। মুখ হতে উপড়ে ফেলা দাত, নখাগ্র আর কেটে নেয়া জিহ্বামূল; - গোগ্রাসী রাক্ষসরাজ এবং তার বংশধরেরা মহা উল্লাসে হজম করেছেন বহু আগেই!


কৃত্রিমভাবে সৃষ্ট দৈন্যদশায় নির্যাতিত, নিপীড়িত হাতিবান্ধার কোন যোগ্য উত্তরসূরি আজও বেঁচে আছেন কিনা? তা সঠিক জানা যায়নি! 

তবে শোনা যায়, হাতিবান্ধা বংশধারার অনেকেই রাক্ষসবিবাহ করে মহাশক্তিধর রাক্ষসরাজের কৃপাদৃষ্টি অর্জন করেছেন এবং বহাল তবিয়তে ক্ষমতাসীন রাক্ষসবংশেই ঘরকন্না চালিয়ে যাচ্ছেন।


শত অন্যায়, নির্যাতন, নিপীড়ন সহ্য করে

তিলোত্তমার গর্ভজ বন্দিশালার অন্ধকূপে কোনরকমে বেঁচে আছেন অসহায় হাতিবান্ধা।

যদিবা তার হাত, পা আর কণ্ঠপথ অবরুদ্ধ;

তথাপি তার অন্তর এবং দৃষ্টিপথ সুদূরপ্রসারী। 

এ দুটির দখল কেউই নিতে পারেন নি কখনো! 

নিজের এহেন অক্ষমতাবশত -

সে কখনোই প্রতিবাদ করে নি, করতে পারে নি।


তবুও- 

মুক্তির স্বপ্ন দেখে হাতিবান্ধা

হ্যাঁ, তবুও স্বপ্ন দেখে- নিশ্চয়ই কোন একদিন; 

এই চাকচিক্যময় অন্ধকার কারাগারের বন্দিদশা হতে মুক্ত করতে পবিত্র আলোর মশালবাহী, দুর্দান্ত দাপুটে, দিগ্বিজয়কারী, ত্রাণকর্তা আসবেন; তিনি আসবেন, অবশ্যই আসবেন, তাকে যে আসতেই হবে ! 

অসহায় হাতিবান্ধা;

বিশ্বাসের আঁকড়ে ডুবে থাকে সারাক্ষণ, 

আর মনেপ্রাণে সেইদিনের স্বপ্ন দেখে!

যেইদিন খুব বেশী দূরে নয়....।।


০২:২৮/২১-০৭-২০১৮ খ্রিস্টাব্দ।

২০ জুলাই, ২০২১

ক্ষমা চাই

 ফুলগুলো সব যাচ্ছে ঝরে

রাখছি না কেউ খবর 

নিত্যদিনই যাচ্ছি খুঁড়ে

নিত্যনতুন কবর! হায় হায়!


ডায়রিয়া আর ম্যালেরিয়া 

কিংবা ডেঙ্গুজ্বরে

ধুঁকছে মানুষ মরছে মানুষ 

কী লাভ হবে কয়ে? হায় হায়!

পড়ছি সবে ইন্না লিল্লাহ 

পাঁজর যাচ্ছে ভেঙে 

নিরুদ্দেশের যাত্রাপথে 

বেহেশত নিচ্ছি মেঙ্গে! ক্ষমা চাই।

ক্ষমা করে দাও

প্রভু সুন্দর 

ক্ষমা করে দাও মোরে

তাদের দিকেও খেয়াল রেখো

ওরা চলছে গায়ের জোরে! হায় হায়।।


°

°

°

ক্ষমা চাই 

রশিদ ভাই

বিশ সাত কুড়ি।

১৯ জুলাই, ২০২১

বাহুবলী: পার্ট থ্রি

 আমাদের বাহুবলী চাঁন্দার ধান্ধায় রাজ্যের গৃহনির্মাণ প্রকল্প কর্তার নম্বরে ফোন করেছেন:

____ "কী মশায়, অসহায় ভূমিহীন গৃহহারা লোকেদের জইন্য গৃহনির্মাণ করছেন, ভালো কথা। কিন্তু, এই বাহুবলীর নামডা বেমালুম ভুইল্যা গ্যাছেন! ব্যাপারটা ক্যামোন হৈয়া গ্যালো না?"

অপরপ্রান্তে থাকা কর্তাব্যক্তি সানুগ্রহে বাহুবলীকে প্রকল্প এলাকায় আসতে বলেন। আহবান পাওয়া মাত্রই বাহুবলী তার সহচর কাট্টাপ্পা'কে নিয়ে মোটরসাইকেল যোগে গৃহনির্মাণ প্রকল্পে চলে যান।

কিন্তু, এ কি!

এখানে তো চাঁন্দা দেয়ার জন্য কর্তা ব্যক্তিদের কেউই উপস্থিত নাই!! 

পরিস্থিতিতে, বাহুবলী আর কাট্টাপ্পা'র মাথা গরম হৈতে থাকে। একপর্যায়ে রেগেমেগে বাহুবলী ঐ প্রকল্পের ঘরগুলোতে লাথি মারতে শুরু করেন! সাথে- সাথে কাট্টাপ্পা'ও শুরু হয়ে যান। তিনি খানিক বাদে বাদে  

"অমরেন্দ্র বাহুউউউ...বালী" বলে হুঙ্কার ছাড়েন আর বাহুবলীর সাথে সমানতালে ঘরগুলোতে লাত্থি ঘুষি মারতেই থাকেন! দুজনের লাথি আর ঘুষিতে ত্রিশটি ঘর নিমিষেই ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়ে যায়।

লাস্ট সিন:

একজন জুনিয়র আর্টিস্ট চিল্লাইয়া ফাল্লাইয়া কইতে থাকেন: 

" ঐ হমুন্দির পুতেরা, বাহুবলী আর কাট্টাপ্পা'র লাত্থি বইলে কতা, তগের এই ত্যাড়াংব্যাড়াং ঘর না ভাইঙ্গা যাইবো কৈ?"


....The End.....


°

°

°

বাহুবলী: পার্ট থ্রি! 

------------------------ রশিদ ভাই। 

ঊনিশ সাত একুশ

পাচেটেদেই

আপনি সেরা-আপনি মহান-আপনি মোদের ভাই

ও তল্লাটে আপনার চেয়ে যোগ্য কেহই নাই!  

আপনি মোদের অতীতজ্ঞ, দেবেন কর্মফল!

কৃতজ্ঞতায়ঃ  পাচেটেদেই  

আহা! মহামহিম পদতল.....  

° 

° 

পাচেটেদেই

 _______ রশিদ ভাই। 

ঊনিশ সাত একুশ

২৩ জানুয়ারি, ২০২১

জমিনে গৃহ

 "ঘরটা পেতে লাগছে মোটে

               তিন কুড়িতে ষাট!

          দেবার কতা ছিলো ফ্রিতে

               খরচা আছে but!"


দশ দশেতে একশো হৈলে

দশ শতকে হাজার

তোঁরা এতো খাইতে পারেন!

ও বাহে.....

         কোন্ঠে করেন বাজার?

ষাট মানে কি?

but মানে কি?

কিচুই বুইচ্চি নাতো চ্যাট!

একনা কতা বুইচ্চি বাহে

তোমার হাঁটুয়া থাকি প্যাট!

এক কুড়িতে হাজার কুড়ি

তিন কুড়িতে ষাট

অক্তচোষা চাম বাদুড়ে

সাজিয়া আইচ্চে লাট!


মোর

জমিনে গৃহ ঘরটা দেলো

শ্যাখের বেটি হাচিনা 

চটি বিছিয়া ফান পাতিচে

লাটের জ্বালায় আর বাঁচি না!


°

°

°

[রংপুরের আঞ্চলিক ভাষায় রচিত লেখাটির কোথাও বুঝতে অসুবিধা হচ্ছে কি? হলে জানাবেন। ধন্যবাদ ]


জমিনে গৃহ

______________ রশিদ ভাই। 

তেইশ এক একুশ

০৫ ডিসেম্বর, ২০২০

সিজদাহ্

 প্রথম মনুষ্য মূর্তি 

সে-তো তুমিই গড়েছো

অতঃপর ফুঁকেছ প্রাণ! 


আদিষ্ট ফারিশতাগণ

আমাতে ঠুকিল সিজদাহ্, হে মহান।

অহংকারী বেশে যে রয়েছে আজতক 

সে মনুষ্য শত্রু-পাপাত্মা-ইবলিশ-শয়তান! 


অনুসারী তার বাড়ে বহুগুণ 

ওরা নিমগ্ন জগতের মোহে

ওগো দয়াময় তব ইশারায় 

সত্য বলে যাই দ্রোহে।


জরায়ুজ-জঠরে ধারণ 

যেই সম্পর্কে অবতারণ 

ক্ষমতা দিয়ো দৃঢ়তার 

দাও মম অন্তরে নিবারণ।।


°

°

°

সিজদাহ্ 


_____________ রশিদ ভাই। 

পাঁচ বারো কুড়ি

৩০ নভেম্বর, ২০২০

আমি তুমি সে

 বছরভর যেদিকে ঘুরে বেড়িয়েছি

এখন সেদিকে আর আসাই হয় না

দেখা হয় না সেই রাস্তার পাশের বাগান,

 ছোট্ট চায়ের দোকান, এখন আর বসা হয় না ঐ বটগাছের নিচেকার বাঁশের আওটালে,

সামনে দিয়েই যেত গরুর গাড়ি,

সপ্তাজুড়ে দেখা যেত কুটুমের আগমনী গান।

পাশেই ছিল ভাপাঁ পিঠার দোকান,

বন্ধুদের সাথে চুটিয়ে আড্ডাবাজি দিনভর 

সিগারেটের ধোয়ার সাথে চায়ের ধোয়ার

সে এক অপূর্বদৃষ্ট প্রেম

দুটোই মিলেমিশে একাকার হয়ে উঠত ধোঁয়াকুন্ড।

একটা বিশেষ সময় অপেক্ষার সময়ে পরিণত হত, সেই সময়টাতে অপেক্ষা করতাম সেখানে।

সে হেঁটে যেত, আমি চেয়ে থাকতাম

সে চলে যেত, আমি চেয়েই থাকতাম

সে হয়ত আমায় দেখেনি কখনওই! 

আমারও এখন আর চেয়ে থাকা হয় না!


আজ কতদিন পর আবার সেই রাস্তাটিতে

চেয়ে দেখো, সবকিছু আগের জায়গাতেই আছে

আধুনিক রূপে বদলে গেছে সবকিছু 

 রাস্তার পাশের সেই ফুল বাগানটি আর নেই, এখন আর ফুল ফোটে না, 

 সেখানেই নির্মিত হয়েছে সুউচ্চ আবাসিক দালান, 

শীতাতপনিয়ন্ত্রিত আবাসিকের মনোরম ঘরগুলোতে ফুল ফোটে না ঠিকই, কিন্তু ফুল ঝরে যায়, নারী ফুল;

ভ্রমরেরা আসে ফুলের প্রেমে মত্ত হতে, মধু নিয়ে চলে যায়, এটা প্রেম নয়, এটা মোহ, এটা হয়ত আসক্তি!

কত ফুল ঝরে গেল তা দেখার মালীও আজ নেই! ফুলগুলি ঝরে যায়, অকাতরে ঝরে যায়।


অবলা পশুর নির্যাতন বন্ধ হয়েছে সেই কবে

এখন যন্ত্রচালিত দ্রুতযানগুলো হিহি করে ছুটে যায় প্রতিদিন, প্রতিরাত।

গাড়িগুলো চলে যায় ক্রোশের পর ক্রোশ


রাস্তাটার বুকে আজ পিচের প্রলেপ লেগেছে

পাথর বালু পানি মাটি আরও কতকিছুর রসায়ন যুক্ত হয়েছে

রাস্তার বুক চিরে ফালা ফালা করেছে

রাস্তাটা নিশ্চয়ই খুব আহত হয়েছিল!

রাস্তাটার অনেক কষ্ট, অনেক কষ্ট

মিশমিশে কালো রংয়ের কষ্ট বুকে জমাটবদ্ধ

বড়বড় গাড়িগুলোর ঘাড়ের বোঝার চাপে রাস্তাটার করুন দশা!

তবুও কি নির্দ্বিধায় বয়ে চলেছে রাস্তাটা

নির্বিঘ্নে ছুটে চলেছে সবই ওর বুক দিয়ে

এখনো আগের গন্তব্যেই পৌঁছায় প্রতিদিন 

ঠিক যেভাবে বয়ে চলেছি আমি, তুমি, সে