০১ নভেম্বর, ২০২৪

বিষবৃক্ষ

 
ওরা বলে, “ওরা তোমার নয়, ওরা পর”—
ওরা ধর্মের নামে দেয়াল তোলে, আর বিভেদের বিষ ঢেলে দেয়।
কিন্তু এই মাটি জানে, এই ভাগ আর ভুলের জাল—
তোমার শত্রুদেশ নয়, তোমারই বুকে বাসকারী বুনেছে এই সংকটের কাঁটা।
পাকিস্তান ভেঙে যে জন্ম তোমার, সে কি কেবলই সীমারেখা?
যে পতাকা রক্তে রঙিন, সে কি খুঁজেছে নিজেরে কোনো ধর্মের ঘেরাটোপে?
এ পতাকা তো এক জননী, তার প্রতিটি সন্তানেরে নিয়ে গড়েছে স্বদেশ।
তবু কেনো বিভক্ত করো তার বুক, কেবলই নেতার পকেট ভরার খেলা?
মাটি শোনায় ইতিহাস, যে পথিক শুনতে চায়—
“হিন্দু-মুসলিম-আদিবাসী, এরা তো আমারই রক্তের গল্প।
যারা বলে বিভেদে মুক্তি, তারা বীর নয়, তারা প্রতারক;
শিকড়হীন আত্মা দিয়ে, ইতিহাসে স্থান পাবার অধিকার তারা রাখে না।”
তুমি যখন মিথ্যার নামে তুলে নাও তলোয়ার,
এই মাটি তখন কাঁদে, আর পতাকা হয় বিবর্ণ।
সেই রাজনীতির ক্রীতদাসেরা তো ক্ষমতার চাবুক ঘোরায়,
আর তোমার নিঃস্ব হৃদয়ে রেখে যায় বিভেদের ছাপ।
জাগো, দেশবাসী, জাগো, এখনো যদি স্বজাতির স্বর না শুনো—
এই মাতৃভূমি ফিরে যাবে কাল পুরনো অন্ধকারের অতলে।
তোমার স্বাধীনতা একে একে হারাবে তার অর্থ, তার রূপ,
আর আস্তাকুঁড়ে হারাবে বীরত্ব, জন্মাবে শুধু অভিশাপ।
এখনো যদি চোখ না খোলো, আসবে প্রতিশোধের দিন—
নিশ্চয়ই একদিন ঐ দালালদের মুখোশ খসে পড়বে, 
আর তোমার মাটি ফিরে পাবে তার কণ্ঠস্বর।
এই মাটি, এই পতাকা—এ তো তোমারই আত্মার রূপ;
বুকে ধরো একে, বিভেদ নয়, সম্মিলনই সত্য বীরের পরিচয়।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন