সময়ের ভাবনাগুলো কলমের মুখ নিসৃত বানী। ব্লগে প্রকাশিত লেখাগুলো পড়ুন ও লিখুন। আপনার সুচিন্তিত মতামত একে আরও সমৃদ্ধ করবে।
২১ অক্টোবর, ২০২২
০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২
লজ্জা
পোশাক নিয়া চারিদিকে কত্ত রকম কথা
বলি আমি পোশাক নিয়া কেন্ন মাথা ব্যথা?
যে চায় যেমন পরুক তেমন সাজুক যেমন খুশি
পোশাক নিয়া হুদাই কেন চলছে ঠাসাঠাসি?
কেউ বিকিনি বোরকা পরে কেউ পরে ফুলশার্ট
স্যুট কোট টাই স্যান্ডো পরে কে হয়েছেন লাট?
লুঙ্গি পাঞ্জাবি ফতুয়া ধুতি যে-যাই খুশি পরি
নিত্য পন্যের বাজার চড়া অনটনে যাই মরি!
ও রে ধর্মাশ্রয়ী-প্রগতিবাদী দেখো দিগ্বিদিক
মোর অন্ন বস্ত্র শিক্ষা স্বাস্থ্য ঘরের'ই নাই ঠিক
লজ্জা শুধুই নারীর ভূষণ যেই ছাগলে কয়
ধরে ভিন্ন শাস্ত্র দীক্ষা মন্দির চিত্রিত মসজিদ
মুক্ত ভুবন মুক্ত আকাশ মুক্ত সকল জীব
মানুষ তুমি বন্দী কেন! হইতেছো নির্জীব?
লজ্জা
এই পৃথিবীতে...
আর কোনো প্রাণী পোশাক পরে?
না, পরে না!
তাহলে, কে পরে?
একমাত্র আমরাই, পোশাক পরি।
কেন পরি?
উত্তর একটাই,
লজ্জা নিবারণের নিমিত্ত পোশাক পরি।
সুতরাং,
সেটাই উত্তম পোশাক
যা আমাকে লজ্জিত করে না।
এখন,
আমি কিসে লজ্জিত হই
আর কিসে লজ্জিত নই
এটা কে ফিক্সড করে দেবে?
২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২২
লইজ্জ্যা
লইজ্জ্যা
রুচি নেই বলে ইনি খেতে পারেন না!
উনি অলওয়েজ ফিট থাকতে ডায়েট করেন!
ছাপোষা চাকুরে খরচ কমাতে গিয়ে শাকাহারী!
খাদ্যের অভাবে গনী মিয়া অর্ধাহারে অনাহারী!
বাতাসে হাহাকার ওড়ে
মাথাপিছু আয় বাড়ে
কলুর বলদ খেটে ক্লান্ত, মরে মরে
সুবোধে কয়:
"হ রে, ঘরের বিবি বেইশ্যা
সবার উপ্রে বইস্যা, ঝিমাই
হ রে, ঝিমাইতাছে নেইশ্যা!
বুঝি না তো,
কহন শীত-কহন বইষষা?
এই ফাগুনমাস আইসস্যা
আগুনে পোড়ে লইজ্জ্যা..."
২৯ আগস্ট, ২০২১
উলঙ্গিনী
২৭ আগস্ট, ২০২১
কবি ও প্রেমিক
আসলেই কি তাই
লোকে প্রেমে পড়লেই কবি হয়?
- না মশায়, একদমই তেমন নয়!
তাহলে সে কবিতার জন্ম দেয় কীভাবে?
যখন, এটা সর্বজনবিদিত লোকে প্রেমে পড়লেই...
- হা হা হা... গুরু
ব্যাপারটা এমন নয়, বলা যায়
প্রেমে পড়লে লোকেদের সুপ্ত কবি প্রতিভার
একটা অবিশ্বাস্য অবিস্মরণীয় স্ফূরণ ঘটে
কোটি কোটি নিউরন অনুরণিত হয়
রঙ্গিন পৃথিবী ধরা দেয় হাতের মুঠোয়
সপ্তাকাশের তাঁরা যেনো একেকটা বেলীফুল
কবি মালা গাঁথে, গুঁজে দেয় চাঁদের খোঁপায়!
তখন...
বনের পাখিরা তাঁর সুরে গলা ছাড়ে
সাগরের ঢেউ খেলানো আনন্দে মাতে
সে পাহাড়চূড়ায় দাঁড়িয়ে আপনমনে গায়...
"ভালবাসি গো...
ভালবাসি গো তোমায়..."
কবিগণ প্রেমে পড়ে
আদা-জল খেয়ে মাঠে ঘাটে বন্দরে সকালসন্ধে গভীর রাত্রি কিংবা ভোরে শয়নেস্বপনে হাবুডুবু!
মধ্যিখানে দাঁড়িয়ে রঙ্গিন সময়
- শেষমেশ?
প্রেমিকা চলে যায় অন্যের ঘরে!
সে ছ্যাঁকা খায় ধোঁকায় পড়ে
সে কেঁদে ওঠে বিরহনলে পুড়ে
হারিয়ে যায় ভুল অভিমানে
কখনোবা মজনু সেজে কাগজও কুড়োয়!
এক্ষেত্রে
বড় মনের কবিরা শুধু হাবুডুবু খেতেই ভালবাসে
ঐসব ছ্যাঁকা কিংবা ধোঁকা তাদের দিলদুয়ার পর্যন্ত পৌঁছায় ঠিকই, কিন্তু, ভেতরে প্রবেশ করে না!
করতে পারে না, কেননা
সেখানে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে তারা বদ্ধপরিকর
এই কবিরা একবার নয় বারবার
জলে ভিজে যায়-দেয় ডুবসাঁতার
বলাবাহুল্য,
জগতে এরাই সবচেয়ে উঁচু দরের কবি ও প্রেমিক।
সারমর্মে,
এই জ্ঞানগর্ভ আলোচনার প্রমাণিত সত্য এটাই যে,
তারা সকলেই কবি, যারা প্রেমে পড়ে...
- আর যারা অপ্রেমিক?
তারা না কবি না প্রেমিক, ওরা ঝাউগাছ!
সুতরাং, প্রেমে পড়ে কেউ কবি হয় না
মূলতঃ প্রেমিকেরা কবি হয়েই জন্মায়!
আজকাল
কোনো কোনো প্রেমিকের
পুরনো স্মৃতি তরতাজা হয়ে সামনে দাঁড়ায়
অতঃপর দু'জন-গভীরে যায়
আরও গভীরে গিয়ে স্মৃতি হাতড়ে খুঁজে
পেতে চায় প্রথম প্রেমের দ্বিতীয় স্পর্শ!
কখনো এ প্রেম দাউদাউ করে জ্বলে ওঠে
এর নীলাভ আগুন সবকিছু করে দেয় ছারখার!
আকছার
এ প্রেম খানিকটা নিস্পৃহতা প্রকাশ করে
তবে, অনুভূতিদের নেই এতটুকু নড়চড়
ওরা সেখানেই ফিরে যায়
যেখানে লিখেছিল প্রেমের মহাকাব্য
হাজারো স্বপ্ন সাজিয়েছিল কাব্যকথায়
সেখানে আবার
নীরব গোপনে সবার অলক্ষ্যে
চুম্বনে চুম্বনে ভরিয়ে দেয় কপোল ওষ্ঠ চোখ
পবিত্র এই প্রেম, এ প্রেম পূর্ণ হোক।
অপূর্ণ ইচ্ছের জগতে কিছু প্রেম প্রকাশিত
কিছু অপ্রকাশিতই থেকে যায় নানান রূপে
এরকম
নিষ্কলুষ নিষ্পাপ মিষ্টিরিয়াজ কতশত প্রেম
অপূর্ণ থেকে যায় হয়ে যায় দূরান্তরের চাঁদ!
তার হিসেব কেউ রাখে?
- না, কেউ-ই রাখে না!
কেন রাখে না?
- কেন রাখে না, এটা তেমন বড় প্রশ্ন নয়
বড় প্রশ্ন হলো এসবের হিসেব রেখেই বা কী হবে?
যাক,
আপাততঃ বাদ দাও সেসব কথা
যাকে ভালবাসি সে হেঁটে যাচ্ছে
আমি তাকে দেখি, বারবার দেখি!
এই দেখাদেখি চোখাচোখিতে নিষেধ নেই
একটু ছুঁয়ে দিই?
- নাহ, ওসব ছোঁয়াছুঁয়ি বলাবলি নিষিদ্ধ!
সে কী! কেন ছোঁয়া যাবে না?
কেন বলা যাবে না কেন!
এ-তো প্রেম-
প্রেম মানে কবিতা
প্রেম মানে অধিকার
সে-তো কোনো পাপ নয়!
জেনে রেখো
যে প্রেমিক সে কবি
প্রকৃতির নিয়মে প্রেমিকেরা কবি হয়েই জন্মায়
তারা আজ মানবসৃষ্ট নিয়মের বেড়াজালে বন্দী
তবুও চলে ছোঁয়াছুঁয়ি
চলে প্রেম প্রেম খেলা
আবেগে অনুভবে হৃদয়ের অলিন্দ দোলা দিলে
কুঁকড়ে ওঠে কবি, প্রসব বেদনায়
লিখে রাখে কবিতার পাতায় পাতায়
"ভালবাসি গো...
ভালবাসি গো তোমায়..."
°
°
°
কবি ও প্রেমিক
________________ রশিদ ভাই
সাতাশ আট একুশ
২২ আগস্ট, ২০২১
মফিজ
মফিজ কয়:
সউগ আস্তা ওদিই হউগ
হামার এদি না নাগে.....?
ওদি দিয়া বড়সড় হনু বাড়ি যায়
এদি দিয়া মফিজের বউ গার্মেচ দৌড়ায়!
আর গরীব চাষাভুষা? দ্যাশের সোগারে ভাত যোগায়...
খবরওয়ালা'ক কই
আপা-তোতো
ঐল্লা পরীমনি আর টরীমনির গল্প বাদ দেও
তিনবিঘা এক্সপ্রেস টেরেন, ফোরলেন আস্তা
আর তিস্তার বাঁধ নিয়া কতা কও
হামার দুউক্কো তুলি না ধইরলে
হনু মিয়ারা করি দিবে?
ওমাগুলাক কন,
এদি সহজসরল সাদাভ্যাল্টা আর শিক্ষিত মফিজও বসবাস করে
আচ্চা!
ওমরা কি হামাক সারাজেবন মফিজ বানে থুবার চায়?
নাকি পোওজ্জা ভাবে?
ক্যানে বাহে, এদিককার বরাদ্দের পাইসা ফুরি যায়?
দ্যাশের ইনকামের কয় পার্সেন্ট মফিজের ঘর পায়?
আস্তাঘাট খালি ওমারে নাগে, হামার নাগে না?
বাহে, এই কতাগুলার ঠিকঠাক উত্তর চাঙ
আর মনে থোন,
এই মফিজ খ্যাইপলে কিন্তুক সগাকে কান্দে ছাড়ি দিবে!
সুতারাং, তাড়াতাড়ি জোড়ন দেও
ইয়াতে তোমারো ভালো হামারো ভালো দ্যাশেরও ভালো;
আরও বড় কতা, শ্যাখ সায়েবের স্বপ্নোপূরোণ হৈবে
পেত্তেকটা গেরাম শহর হয়া যাইবে...
°
°
°
মফিজ
_______________ রশিদ ভাই
বাইশ আট একুশ