০৫ ডিসেম্বর, ২০২০

সিজদাহ্

 প্রথম মনুষ্য মূর্তি 

সে-তো তুমিই গড়েছো

অতঃপর ফুঁকেছ প্রাণ! 


আদিষ্ট ফারিশতাগণ

আমাতে ঠুকিল সিজদাহ্, হে মহান।

অহংকারী বেশে যে রয়েছে আজতক 

সে মনুষ্য শত্রু-পাপাত্মা-ইবলিশ-শয়তান! 


অনুসারী তার বাড়ে বহুগুণ 

ওরা নিমগ্ন জগতের মোহে

ওগো দয়াময় তব ইশারায় 

সত্য বলে যাই দ্রোহে।


জরায়ুজ-জঠরে ধারণ 

যেই সম্পর্কে অবতারণ 

ক্ষমতা দিয়ো দৃঢ়তার 

দাও মম অন্তরে নিবারণ।।


°

°

°

সিজদাহ্ 


_____________ রশিদ ভাই। 

পাঁচ বারো কুড়ি

৩০ নভেম্বর, ২০২০

আমি তুমি সে

 বছরভর যেদিকে ঘুরে বেড়িয়েছি

এখন সেদিকে আর আসাই হয় না

দেখা হয় না সেই রাস্তার পাশের বাগান,

 ছোট্ট চায়ের দোকান, এখন আর বসা হয় না ঐ বটগাছের নিচেকার বাঁশের আওটালে,

সামনে দিয়েই যেত গরুর গাড়ি,

সপ্তাজুড়ে দেখা যেত কুটুমের আগমনী গান।

পাশেই ছিল ভাপাঁ পিঠার দোকান,

বন্ধুদের সাথে চুটিয়ে আড্ডাবাজি দিনভর 

সিগারেটের ধোয়ার সাথে চায়ের ধোয়ার

সে এক অপূর্বদৃষ্ট প্রেম

দুটোই মিলেমিশে একাকার হয়ে উঠত ধোঁয়াকুন্ড।

একটা বিশেষ সময় অপেক্ষার সময়ে পরিণত হত, সেই সময়টাতে অপেক্ষা করতাম সেখানে।

সে হেঁটে যেত, আমি চেয়ে থাকতাম

সে চলে যেত, আমি চেয়েই থাকতাম

সে হয়ত আমায় দেখেনি কখনওই! 

আমারও এখন আর চেয়ে থাকা হয় না!


আজ কতদিন পর আবার সেই রাস্তাটিতে

চেয়ে দেখো, সবকিছু আগের জায়গাতেই আছে

আধুনিক রূপে বদলে গেছে সবকিছু 

 রাস্তার পাশের সেই ফুল বাগানটি আর নেই, এখন আর ফুল ফোটে না, 

 সেখানেই নির্মিত হয়েছে সুউচ্চ আবাসিক দালান, 

শীতাতপনিয়ন্ত্রিত আবাসিকের মনোরম ঘরগুলোতে ফুল ফোটে না ঠিকই, কিন্তু ফুল ঝরে যায়, নারী ফুল;

ভ্রমরেরা আসে ফুলের প্রেমে মত্ত হতে, মধু নিয়ে চলে যায়, এটা প্রেম নয়, এটা মোহ, এটা হয়ত আসক্তি!

কত ফুল ঝরে গেল তা দেখার মালীও আজ নেই! ফুলগুলি ঝরে যায়, অকাতরে ঝরে যায়।


অবলা পশুর নির্যাতন বন্ধ হয়েছে সেই কবে

এখন যন্ত্রচালিত দ্রুতযানগুলো হিহি করে ছুটে যায় প্রতিদিন, প্রতিরাত।

গাড়িগুলো চলে যায় ক্রোশের পর ক্রোশ


রাস্তাটার বুকে আজ পিচের প্রলেপ লেগেছে

পাথর বালু পানি মাটি আরও কতকিছুর রসায়ন যুক্ত হয়েছে

রাস্তার বুক চিরে ফালা ফালা করেছে

রাস্তাটা নিশ্চয়ই খুব আহত হয়েছিল!

রাস্তাটার অনেক কষ্ট, অনেক কষ্ট

মিশমিশে কালো রংয়ের কষ্ট বুকে জমাটবদ্ধ

বড়বড় গাড়িগুলোর ঘাড়ের বোঝার চাপে রাস্তাটার করুন দশা!

তবুও কি নির্দ্বিধায় বয়ে চলেছে রাস্তাটা

নির্বিঘ্নে ছুটে চলেছে সবই ওর বুক দিয়ে

এখনো আগের গন্তব্যেই পৌঁছায় প্রতিদিন 

ঠিক যেভাবে বয়ে চলেছি আমি, তুমি, সে

২৮ নভেম্বর, ২০২০

চিতা কফিন আর কবর

হিন্দু ম'লে শবদেহ কয়
মুসলমানেরে লাশ
ইংরেজেরা ডেডবডি হয়
বলেন তো কে পাশ?

শবদেহখান অগ্নিতে ছাই
লাশ পঁচে ঐ গোরে
ডেডবডি যায় কফিনে পুরে
কেহই বাঁচিয়া নাহি ফেরে!

মরার পরে কে কোথা যাও?
হেথা পাই না কারোর খবর
বাঁচিয়া থাকিতে যুদ্ধ করিতে
চিতা কফিন আর কবর!

যে-সব নিয়া আসিনি ভবে
কে সব চাপায়ে দিয়াছে ঘাড়ে?
মানিয়া চলিতে রীতিনীতি শ্লোক
মানুষ নিজেই নিজেরে মারে!!!

০৯ অক্টোবর, ২০২০

পৃথিবীর ঋণ


সত্য পথে চলরে সুজন 
সদা সত্যের কথা বল
আসুক যতই বাধা বিঘ্ন
আসুক বাধার বিন্ধ্যাচল
তোরা সত্য পথেই চল।

সত্য পথেই চলরে বন্ধু
বিচলিত নয় এক বিন্দু
সত্যের পথ বড়ই বন্ধুর
মিথ্যের আছে বালির সিন্ধু।

মিথ্যেরা সব করেছে যুক্তি 
সত্যের থেকে নেবে ভক্তি!
ওরা সবে জোট বেধেছে-
বালির বাধে ভর করেছে!

সত্যবাদী পায়না'রে ভয়
বুক চিতিয়ে আগুয়ান হয়
মিথ্যে সেতো পালিয়ে বেড়ায়!
কাপুরুষে কে খোঁজে হায়?

প্রতিবাদের আওয়াজ তুলে
ঢ্যামকুড়াকুর নাচের তালে
মিথ্যের ওই নায়ের পালে
দে সত্যের আগুন জ্বেলে।

মৃত্যু? সে তো সত্যরে ভাই! 
নিশ্চয়, সে আসবেই কোনদিন
বেঁচে থাকতে যেওনা রেখে
এই মিথ্যে পৃথিবীর ঋণ ।।

১২:০৮/০৬-১০-২০১৭

দ্যাশ গেল, জাত গেল

বিচার মানল ভ্যাদারাম বাবু 

তবু তালগাছ ছাড়ল না!

এত্ত বড় অন্যায় করল
কেউ কিছুই কইল না!

পাপাচার দেইখ্যা সুশীল বাবু
একবারও না ঝেড়ে কাঁশে;
দ্যাশ গেল, জাত গেল কহে
আর অন্যেরে সে দোষে।।

অন্যায় দেখে চুপ করে তুই
ওরে সুশীল, থাকবি কতকাল?
তোদের মত বাবুদের জইন্য
আইজ সমাজের এই হাল।।

#সত্যপলোব্ধি#


প্রায়শ্চিত্ত

 আমি আর সবুজ দেখি না

কাশফুলের শুভ্রতা নেই

রঙধনুটাও ফিকে মনে হয়

তাই আকাশের নীল দেখি না!

মেঘগুলো কালোরঙ 

অভিশাপে অন্ধ দিবাকর  

নিকষকালো অন্ধকারে

ছেয়ে গেছে আমার পৃথিবী!


জাগতিক ক্ষুধার তীব্রতায়

ঈশ্বরও আজ বিলীয়মান

ভুলেছি নিজের অবস্থান 

কিছুতে ভরে নি এ মন!


এখন শুধুই প্রায়শ্চিত্ত

যা আমার প্রাপ্যতা ছিলো!

প্রলাপ

 এইযে দাদা____

গারদের রাস্তাটা বলতে পারেন?

জি, পাগলাগারদ, অনুগ্রহপূর্বক রাস্তাটা বলে দিন!

হয়েছে কী জানেন, প্রাণখুলে হাসিনি অনেকদিন!

তাছাড়া, ভয়ার্তপ্রাণে কেইবা হাসতে পারে?

হ্যাঁগো দাদা, এখানে হাসতে মানা-সরকারি রুল!

হাসি তো ফাঁসি!!

হুম, ফাঁসি মানে ফাঁসি-এক্কেরে গলায় দড়ি।


স্বাধীনতা শুধু পাগলের____

যার প্রাণখোলা হাসিতে উপচে পড়ে দু'গাল!

তবুও কোনদিন ফাঁসিকাঠ তাকে ছুঁতে পারেনি! 

চারিদিকে মৃত্যুর মিছিল- অন্যায়ের সুউচ্চ পাচিল 

প্রতিদিনই দলেদলে ছলেবলে মরছে মানুষ!!

অতশত ঘূর্ণিপাকে - প্রতিবাদ করিনি

উপেক্ষা করিনি রোদে ঝড়-বৃষ্টিকে! 

প্রকৃতির মহিমায় 

আমি বড় অসহায় 

গুমোট বাতাবরণ - পাগল হয়ে যাই!


দাদা_____,

প্রাণখুলে হাসিনি অনেকদিন!

গারদে যেতে চাই!

দয়াকরে, রাস্তাটা বলে দিন;

আমি হাসতে চাই- হাসতে চাই!

আমি হাসতে চাই!

আমি হাসতে চাই!

কারোরই বিচার চাই না - প্রাণখুলে হাসতে চাই।


_____________