২১ জুলাই, ২০২১

একটি ঘর

একটি ঘরের নির্মাণ শ্রমিকেরা মদ্যপান করতেন
কিছুসংখ্যক চোর ডাকাত লুটেরা খুনির দেয়া অর্থে
ঘরটির নির্মাণ ব্যয় নির্বাহ করা হয়,
বর্তমানে
একজন দায়িত্বশীল লেবাসধারী ব্যক্তি ঘরটির দেখভাল করছেন।


আজকাল দলেদলে উঁচুনিচু সুফি সাধু সন্ন্যাসী এবং
পাপীতাপী নারীপুরুষ সেখানে পবিত্র হতে আসেন!
অথচ, যিনি সকলকে পবিত্র করবেন
তিনি কখনোই সেখানে আসেন না!
অগত্যা,
আমিও তাকে ডেকেছি বহুবার
তিনি আসেন নি
দৈব চয়নে বলেন,
"হেথায় ডেকো না, আমি যেথাসেথা যাই না!"

ভেজাল সম্প্রদায়

 দুধে ভেজাল মাছে ভেজাল, ভেজাল সকল খাদ্যে

ভেজাল খেয়ে অসুখে শরীর ভেজাল ওষুধপথ্যে!

নেতা ভেজাল কর্মী ভেজাল

ও ভাই, ভেজালে ভরা দেশটা

এই দেশেতে চলছে এখন সাম্প্রদায়িকতার চেষ্টা।।


ইবনে মিজান

ঘটমান বর্তমান

২১ জুলাই ২০১৯

নিন্দুক

 তুমি করছো নিন্দা

যত্রতত্র প্রতিসন্ধা

তোমার জন্য আছে বান্ধা

একগুচ্ছ রজনীগন্ধা।।


তুমি আমার প্রিয় মিত্র

সারাদিন করো ষড়যন্ত্র

কে আছে আর এমন অত্র

তুমিই আমার প্রিয়পাত্র।।


তোমার জন্য সারাক্ষণি

নিজের ভূল নিজেই চিনি।।


= কোয়েল =

নারী

 কখনো তুমি আদরিণী

কখনো নয়ন মণি

কখনো সেঁজেছ পূজারিণী 

আবার কখনো মায়াবন বিহারিণী।


কখনো তুমি আবেদনময়ী 

কখনো বেসেছো ভাল

কখনো তুমি করেছো খেলা

হয়েছো রাতের আলো

সোনালী কৈশোর


ছিল সে রাজা, 

ছুটেছে সারাদিন, খেলেছে ডাংগুলি, 

কেঁটেছে সাঁতার তিস্তানদীর পাড়ে।

গাছে উঠে আম, পাড়ে দমাদম

কে রুখতে পারে?


আপন রাজ্যে ছিল সে রাজা

বাকি সব যেন, ছিল তার প্রজা,

রাজার রাজ্যের রাজ্যেশ্বরী

ছিলনাতো কোন অপ্সরী।।


দিনমান শুধু দস্যিপনা, হুটোপুটি খেলা

রাজ্যপাটে ছিলনা কোন অবহেলা,

সে রাজ্যে বসেছিল তিন বেলা

নিষ্পাপ জনতার মিলন মেলা।।


রাজ্যে সবাই সুখেই ছিল

ছিলনাতো কোন কষ্ট,

উজির, নাজির সকলে ছিল

কেউ ছিলনা আড়ষ্ট।।


বাবার শাসন, মায়ের আদরে

হয়েছিল রাজা দুষ্টু! 

সময়ের তালে হায়, দিন চলে যায়

 রাজা এখন বয়সে পরিপুষ্ট।।


রাজার রাজ্য নেইতো খালি

রাজাই ছেলেই রাজা,

রাজা-রানী, সভাষদ মিলি

সেঁজে আছে তাই প্রজা।।


যে সময় হায়, পার হয়ে যায়

সে আসে না আর ফিরে,

সোনালী কৈশোর স্মৃতি হয়ে রয়

বৃদ্ধ রাজার স্মৃতিনীড়ে।।


= কোয়েল =

কারাবাসী

 কারাবাসী


দেয়ালের বহিরাংশে তোমাদের পৃথিবী

বেঈমানেরা কেউ যাবে কি দেখে, কি সুখে আছি!


যার যেমন কর্মগুনে এসে পড়েছে জেলে,

এখানে প্রভাকর কঠিন নিয়ম মেনে চলে;

সূর্যোদয়ের আগেই ঘুম ভাঙতে হবে সেলে,

চার-চার করে বসতে হয় হিসাব মেলাতে গেলে;

সকাল হলেই পাঠালি গুড়,শুকনো রুটি মেলে

এই পৃথিবীর সকলেই তা গোগ্রাসে গিলে।।


দেয়ালঘেরা পৃথিবীতে এরা ৬০০ জন

সবাই যেন চিরচেনা, অতি আপনজন

কেউবা কেঁদে কূল পায়না, কেউবা খোঁজে মরণ

অপরাধী নয়তো সবাই, বিধাতার এ কেমন আচরণ?

মা আসে, বৌ আসে, আসে কত স্বজন

কেঁদেকেটে বুক ভাসায়, মুক্তি প্রয়োজন।।


মানুষের নাই মূল্য কোন, তার সাথে হয় অত্যাচার

খোদার কাছে নালিশ করারও নাই কোন উপায়ান্তর,

মানুষ যেন মানুষ নয়, গোবাদি পশুর ছানা

একদিন অত্যাচারিত মানুষগুলো করবে সব ফানাফানা।।


মিথ্যা দোষে অপরাধী এত! সামান্য কিছু দোষী,

বিনাদোষেই সাব্যস্ত দোষী, আজীবন কারাবাসী!

ভাগ্যাহত মানুষগুলো নিজভুমে পরবাসী,

ষড়যন্ত্রীর হবে কি বিচার, পরাতে গলায় ফাঁসি?


বিধাতার কী নাইরে বিচার,  

বন্ধ হবে কবে অন্যায় - অবিচার?

                                                           (সং ক্ষে পি ত)


 = কোয়েল =

হাতিবান্ধা: একটি রাক্ষসপুরীর গল্প

 হাতিবান্ধা: একটি রাক্ষসপুরীর গল্প। 


জাগতিক রাক্ষসপুরী হতে নাতিদূরত্বে অবস্থিত চাকচিক্যময়, মনোহরা, প্রিয়দর্শিনী এই নগরীর নাম হাতিবান্ধা; বাস্তবতার নিরীখে কল্পিত এক ভুল নগরী। এর নির্দিষ্ট কোন মহাদেশ, জেলা বা উপজেলা নেই! 


তার বাপ, মা, ভাই, বোন কিংবা আত্মীয়স্বজন?


পূর্বে ছিলেন বটে, তবে এখন আর কেউ নেই! 

 হঠাৎই সদলবলে কোথায় যেন মিলিয়ে গেছেন! 

কোথায় মিলিয়েছেন? তা অনাবিষ্কৃত,

ইতিহাসবেত্তাগণের মতে: "যেইদিন হতে বিশালদেহী এই নগরীর দখল নিয়েছেন ইহলোকের অপরাজেয় মহাবীর রাক্ষসরাজ, সেইদিন হতে তাদের আর কোথাও খুঁজে পাওয়া যায় নি!"

রাক্ষসবংশের সুনিপুণ কারিগরি দক্ষতা, দূরদর্শী নেতৃত্বে তিলেতিলে গড়ে উঠেছে এই তিলোত্তমা নগরী।  


চোখ ধাঁধানো রাক্ষসপুরীর অন্ধকার বন্দিশালায় হাতিবান্ধার বয়স একবিংশ শতাব্দীকাল পূর্ণ হতে চলেছে। সিংহাসনচ্যুত হাতিবান্ধার দুটো হাত বেঁধে, পায়ে শেকল পরানো হয়। মুখ হতে উপড়ে ফেলা দাত, নখাগ্র আর কেটে নেয়া জিহ্বামূল; - গোগ্রাসী রাক্ষসরাজ এবং তার বংশধরেরা মহা উল্লাসে হজম করেছেন বহু আগেই!


কৃত্রিমভাবে সৃষ্ট দৈন্যদশায় নির্যাতিত, নিপীড়িত হাতিবান্ধার কোন যোগ্য উত্তরসূরি আজও বেঁচে আছেন কিনা? তা সঠিক জানা যায়নি! 

তবে শোনা যায়, হাতিবান্ধা বংশধারার অনেকেই রাক্ষসবিবাহ করে মহাশক্তিধর রাক্ষসরাজের কৃপাদৃষ্টি অর্জন করেছেন এবং বহাল তবিয়তে ক্ষমতাসীন রাক্ষসবংশেই ঘরকন্না চালিয়ে যাচ্ছেন।


শত অন্যায়, নির্যাতন, নিপীড়ন সহ্য করে

তিলোত্তমার গর্ভজ বন্দিশালার অন্ধকূপে কোনরকমে বেঁচে আছেন অসহায় হাতিবান্ধা।

যদিবা তার হাত, পা আর কণ্ঠপথ অবরুদ্ধ;

তথাপি তার অন্তর এবং দৃষ্টিপথ সুদূরপ্রসারী। 

এ দুটির দখল কেউই নিতে পারেন নি কখনো! 

নিজের এহেন অক্ষমতাবশত -

সে কখনোই প্রতিবাদ করে নি, করতে পারে নি।


তবুও- 

মুক্তির স্বপ্ন দেখে হাতিবান্ধা

হ্যাঁ, তবুও স্বপ্ন দেখে- নিশ্চয়ই কোন একদিন; 

এই চাকচিক্যময় অন্ধকার কারাগারের বন্দিদশা হতে মুক্ত করতে পবিত্র আলোর মশালবাহী, দুর্দান্ত দাপুটে, দিগ্বিজয়কারী, ত্রাণকর্তা আসবেন; তিনি আসবেন, অবশ্যই আসবেন, তাকে যে আসতেই হবে ! 

অসহায় হাতিবান্ধা;

বিশ্বাসের আঁকড়ে ডুবে থাকে সারাক্ষণ, 

আর মনেপ্রাণে সেইদিনের স্বপ্ন দেখে!

যেইদিন খুব বেশী দূরে নয়....।।


০২:২৮/২১-০৭-২০১৮ খ্রিস্টাব্দ।